Saturday, October 25, 2014

মাম্মা ওয়াঞ্চস য়ু টু সিট ডাউন, নাউ: "সি ফুড"

দেখুন স্যর, ট্রাভেলগ তো অনেক পড়েছেন। ছাপা, বাঁধানো, সুন্দর সুন্দর ছবি দেওয়া। আপনার জন্য আমাদের ব্লগ কোম্পানি বিনে পয়সায় এই ট্রাভে-ব্লগের ব্যবস্থা করেছে।

ইন্টারনেটে রোজ'ই তো কত্ত কিছু পড়েন। আমার এই পাতা নেক্সট্‌ ক্লিকেই চোখের সামনে থেকে উড়ে যাবে।

পড়া না পড়া ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু একটু পল্লবগ্রাহিতা তো করে দেখুন।

কারেকশনঃ আগের প্যারায় যা লিখেছি, দয়া করে ভুলে যান। পড়া না পড়া আপনার নয়, বেশ কিছু দিন হল আমার ব্যাক্তিগত ব্যাপার হয়ে গেছে। মানুষ অভ্যাসের দাস, খারাপ মানুষ তো বিশেষ করে। সুতরাং ব্লগ পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সেটা না জানালে, আকুপাকু অবস্থা এবং শেষমেষ আকুপাংচার।

ট্রাভেলগ হওয়ার কথা ছিল বোস্টনের, কিন্তু এখনও দেশ ছেড়ে বেরোনো হয় নি। নিজগুণে ক্ষমা করবেন, প্লিজ।

আর হ্যাঁ, প্রথম আর দ্বিতীয় সংখ্যা এখানে রইলো। যেহেতু আমরা কোন নির্দিষ্ট টাইমলাইন অনুসরণ করছি না, এখন থেকে শিরোনামে সেই পর্বের কোন ক্যাচলাইন দেওয়া থাকবে।

হ্যাঁ, এই আইডিয়া'টা ফ্রেন্ডস থেকে বেমালুম ঝাড়া।
--

আপনি কি সি ফুড খান?

মানে দায়ে পড়ে খান, না ভালোবেসে খান? যদি ভালোবেসে খান, তাহলে একটা গায়ে পড়ে সাজেশন - ইন্ট্যারন্যাশনাল ফ্লাইটে চাপবার অন্তত একদিন আগে আপনার পছন্দটা প্লেন কোম্পানিকে জানিয়ে দিন।

কেন?

উহু, কারণ টা শুধুই চিংড়ি বা টুনা অথবা স্যালমন প্রেম নয়। আসল কারণ হল গিয়ে লোভ।

পুরোদস্তুর হ্যাংলামো।

এয়ারহোস্টেস মহোদয়া যবে ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে আপনার কাছে আসবেন, গড়পড়তা পঞ্চাশ জন ততক্ষণে খাবার খুলে ফেলেছেন। প্রথম রো'তে অনেকেই ততক্ষণে ঢেঁকুর তুলতে শুরু করেছেন। আপনার পাকস্থলীতে অভ্রান্ত নিশানায় সুগন্ধের কার্পেট বম্বিং শুরু হয়েছে

কিন্তু কিচ্ছু করার নেই।

যদি না আপনি আগে থেকে স্পেশাল অর্থাৎ কিনা স্বাভাবিক নয় এরকম কিছু অর্ডার করে রাখেন।

অস্বাভাবিক খাবারের লিস্টি অবশ্য ছোট নয়। হিন্দু মিল, মুসলিম মিল, সি ফুড, জৈন মিল ইত্যাদি ইত্যাদি।

জুরিখ থেকে দুবাই এর ফ্লাইট পাকড়ানোর আগে বন্ধু -কাম-ভাই-কাম-অঙ্কের-গবেষক একজন'কে একবার এই সেম জ্ঞান পাস করেছিলাম। ছেলে বুদ্ধিমান এবং এক্সপেরিমেন্টাল, এবং জাজমেন্টাল।

আচ্ছা, হিন্দু মিল নয় কেন?

প্লেন কোম্পানি হিন্দুমাত্রেই শাকাহারী ধরে নেয়, তারপর লাঞ্চ বক্সটা কালাহারি'র মত ধু ধু করে কিনা, তাই।

হুম, তাইলে মুসলিম মিল কি দোষ করল?

এবার আমার মাথা চুলকানোর পালা। ইয়ে, না মানে দোষ কিছুই নয়। আসলে যাবতীয় ধর্মীয় ব্যাপার থেকে নিজেকে যথাসম্ভব দূরে রাখাটাই আমার মতে সেফ এন্ড সিকিওর।

একদম ডাহা মিথ্যে কথা। খাওয়ার জন্য এ শর্মা অনেক নিচে নামতে পারে, ধর্ম ইনক্লুডেড।  মাস্টার ডিগ্রী পড়াকালীন পরবাসী শিক্ষার নিয়ম মেনে দিনের দিনের নিজেকে রান্না বান্না করেই খেতে হত। বাংলার মাস্টারমশাই কে মনে পড়ত, অদ্যভক্ষ ধনুর্গুণ কথাটার মানে হাড়ে হাড়ে টের পেতাম। তাই সুযোগ পেলেই ধর্মীয় স্থানে গিয়ে চারটি খেয়ে আসতাম।

চার্চ, মন্দির, মসজিদ সর্বত্রই। পাপী তাপীদের কোনো স্থিরতা থাকে না।
নেহাত আমি যে শহরে থাকতাম সেখানে গুরদোয়ারা ছিল না তাই।

মন্দিরে মিষ্টি, ফল।
চার্চে কেক, ফল।
একমাত্র মসজিদ’ই আমার টেনাসিটির মান রাখতো - ভেজ পিৎজা।

ইতালির গা ঘেঁষা সেই সুইস শহরে বেগুন বা ফুংগি (মাশরুম) পিৎজার স্বাদ'ই আলাদা। বাংলাদেশী অথবা নিদেনপক্ষে ওদেশী বাড়িতে পাত পেড়ে সর্ষে ইলিশের মত। অথেন্টিক এবং রিলায়েব্‌ল।

তো স্বভাবতই প্লেন কোম্পানির ঘোষিত মুসলিম ফুড খারাপ হওয়ার কথা নয়। সুতরাং মুসলিম মিল ট্রাই করা যেতেই পারে, ইন ফ্যাক্ট ট্রাই করা উচিত।

সেইমত সিলেক্ট করা হল। আমি সি ফুড, বন্ধু মুসলিম ফুড।

অবশেষে শুভযাত্রার দিন এল। প্লেনে চাপলুম, খানিক এদিক ওদিক করার পরে প্লেন যখন গোঁত্তা খেয়ে পূবে বাঁক নীল আর জুরিখ লেকের শেষটা মিলিয়ে গেল, বিমানসেবিকা আসলেন।

সি ফুড স্যার?

ইয়েস প্লিজ।

মফস্বলের মধ্যবিত্ত পরিবারে বড়ো তো। প্রতিবার ভাবি এতবার যাচ্ছি, এবার নিশ্চয়ই লবস্টার আর ক্যাভিয়ার দেবে। যথারীতি টুনা পড়েছে কপালে, ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের ইকনমি ক্লাসে এর চেয়ে বেশী আতিথেয়তা জুটবে না।



আশেপাশের সিটে একটু আলোড়ন উঠলো। আমাদের লাইন ভেঙ্গে খাবার দেওয়া হচ্ছে কিনা।

কিছুক্ষণ পরে আমার বন্ধুর সামনে এসে, রক্তকেশী - এন্ড ফর ইউ স্যার, ইজ ইট মুসলিম মিল?

হ্যাঁ।

আমরা দুজনেই সাগ্রহে তাকিয়ে রইলাম। ভদ্রমহিলা অত্যন্ত কষ্ট করে, অবিকল অধুনা লুপ্তপ্রায় অজন্তা সার্কাসের সুন্দরী ট্রাপিজ নর্তকীর মত, নয়নাভিরাম ব্যাল্যান্স করতে করতে, একটা স্ট্যান্ডার্ড প্লেটে, অসম্ভব বিশাল মুর্গীর গোটা রোস্ট ও তৎসহযোগে বিড়াল-না-ডিঙ্গাতে-পারা ভাত, রুটি, কাবাব ইত্যাদি উপুড় করে দিলেন। একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এই পরিমাণ খাওয়া অসম্ভব। বাজী রেখেও নয়।

মুসলিম ফুডের বদান্যতায় আমি আপ্লুত। অভিভূত।

আমার বন্ধুটি আবেগতাড়িত হয়ে যেই না মুখ ফসকে বলে ফেলেছে, বাব্বা, সো মাচ ফুড। ট্রাপিজ নর্তকী থুড়ি বিমানসেবিকা মুখটা হাসি হাসি করে বললেন, এমিরেট্‌স অলওয়েজ টেকস্ কেয়ার অফ ইয়োর স্পেশাল নিড, স্যর। সিন্স ইউ ফাস্টেড ফর দ্য লাস্ট সিক্সটিন আওয়ারস, প্লিজ কন্সিডার দিস ……

ফাস্ট??
কে করেছে?
কবে?
কোথায়? কেন

বললাম না বরাবর’ই ধর্মীয় ব্যাপার স্যাপার থেকে দূরে থাকি। তাহলে ফাস্টের প্রসঙ্গ আসছে কেন?
এয়ারপোর্টে চব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় কিছুই বাদ দিই নি। দু’জনেই। এবং সেটা রীতিমত বিগত ষোলো ঘন্টার মধ্যেই হয়েছে।

হঠাৎ জটায়ু - হাজার ভোল্টের স্পার্ক। ও হো, এ তো রমজান মাস।
একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম যে প্লেনে অব্দি মুসলিম মিল ছাড়া খায় না, তার তো এটুকু যত্ন প্রাপ্য। সারা দিন উপবাসে রয়েছে বেচারা।

উজ্‌ ইউ লাইক টু হ্যাভ এনি ড্রিংক স্যার?

বন্ধুবর খাবারের বিশাল প্লেটের দিকে তখনও হিপ্নোটাইজ্‌ড হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে।

এক্সকিউজ মি স্যর, হুইচ ড্রিংক ফর ইউ?

হুইস্কি প্লিজ। ওনলি সোডা, নো ওয়াটার।

অনেক অন্যান্য অনুভূতির মতোই চমক সাধারণত একদিকে হয় না। ব্যাপারটা হাই তোলার মত, ছোঁয়াচে। যত পরেই হোক, আসবেই আসবে।

যে শান্ত বিমানসেবিকা দু'কিলোর ডিনার সরবরাহ করে আমাদের যারপরনাই চমকে দিয়েছিলেন, তিনিই এবার হাঁ। আরেকবার জিজ্ঞেস করলেন, ডিড ইউ সে হুইস্কি স্যার?

বন্ধু কনফিডেন্ট। ইয়েস প্লিজ।

যে ধর্মপ্রাণ মুসলিম মানুষটি প্লেনে ওঠার আগে মুসলিম মিল অর্ডার করতে ভোলেন নি, তাকে সুরা সার্ভ করতে ভদ্রমহিলার একটু বাধো বাধো ঠেকছিল।

ভ্রাতৃপ্রতিম ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো, কি অনির্বাণ’দা? কেমন হল?

প্লিজ হাত লাগাও। গোটা মুর্গী সাবাড় করা আমার কম্মো নয়। যাইহোক খাবারটা একঘর দিয়েছে, কি বলো? এরপর থেকে তো তুমি সি ফুড ছেড়ে মুসলিম মিলের দিকে ঝুঁকবে?

নাহ্‌ ভাই আমি ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকতে পারবো না রে। আমার সি ফুড বেঁচে থাক।

কেন? সি ফুড কেন? ঝুঁকি কিসের?

কারণ, নাই মামার থেকে কানা মামা ভাল।

মানে?

মানে এটা ডিনার বলে ডবল খাবার পেলি। লাঞ্চ হলে?

এক গ্লাস জল জুটত, টেনেটুনে জুস।
--

কিছুদিন আগে ব্লগ অ্যানালিটিক্স সংক্রান্ত একটি জ্ঞানের লেখা পড়লাম - তাঁরা বলেছেন, পাঠক’কে যদি আপনি গঁদের আঠা ছেড়ে ফেভিকলের আঠা ধরাতে চান তাহলে মিনিমাম একটা শব্দসংখ্যার লেখা লিখতেই হবে। তাঁর থেকে কম - নৈব নৈব চ।

ফেভিকল’কে ফেভি কুইকে পরিণত করতে গেলে নিয়মিত লিখতে হবে। পাঠককে আমি আছি, আমি আছি।

মোদ্দা কথা পোচ্চুর পরিশ্রম করতে হবে। অতএব এখানে শেষ না করে হাজার শব্দ অতিক্রম করতে চাইছি। আটখানা গানেও ফিতে না ভরলে যেমন টেপের শেষে ফিলার থাকতো, এবং অনেক ভালো জিনিষের মতোই প্রযুক্তি যাকে কেড়ে নিয়েছে, সেই ফিলারের শরণাপন্ন হলাম।
--

প্রায় সব ভারতীয় বিদেশযাত্রার সময়ে, লাগেজে করে প্রচুর ভারতীয় খাবার বিদেশে নিয়ে যান - এই ধরণের খাবারের রেঞ্জ অসামান্য - রাহুল দ্রাবিড়ের তূণেও এর থেকে কম শট আছে। মুড়ি, ম্যাগি, মিষ্টি থেকে শুরু করে হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, তেজপাতা ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমার ব্যাগে যেমন থাকতো ইঁটের মতো শক্ত ফ্রজেন, লোটে মাছের ঝুরা। যারা জানেন না, তাদেরকে আমি জানাতে চাই না, কারণ ওপরের সিক্রেটের মত এটাও ফাঁস হয়ে গেলে মুশকিল।

মাছ’টা তাহলে আর পঞ্চাশ টাকা কিলো থাকবে না।

তো এরকম আমার দুই বন্ধু শর্ট টার্ম ট্রিপে আম্রিকা গেছে। একজন সিনিয়র, একজন জুনিয়র। বয়েসের পার্থক্য প্রায় দশ বছর। দুজনেই পাঁচ কিলো করে বিস্কুট নিয়েছে। প্ল্যান পাকাপোক্ত।

ট্রানজিট এয়ারপোর্টে পৌঁছে বড় বন্ধু ছোট বন্ধুর কাছে বিস্কুট চাইল।
ক্যারি-অন লাগেজ থেকে বিস্কুট বার করতে করতে অত্যন্ত বিরক্ত  মুখে ছোট বন্ধু বলল,

কলকাতায় তখন পইপই করে বললাম, পুরো বিস্কুট’টা চেক-ইন লাগেজে ঢুকিয়ো না। এবার বোঝো। শিকাগো আসার আগেই বিস্কুট ফুরিয়ে গেলে খাবেটা কি?
— 

কথা দিচ্ছি, এর পরের সংখ্যাতেই আমরা বোস্টন ছোঁব।
অবশ্য আপনারা হলেন কিনা প্রিয় পাঠক, আমি ভুল করলেও আপনারা মানিয়ে নেবেন, এ বিশ্বাস আমার আছে।
ষোলো আনা।

20 comments:

  1. muslim meal er idea ta darun next time try korte hobe :-) as usual lekha ta khub bhalo eta abar bolar name hoy na :-) :-)

    ReplyDelete
    Replies
    1. আরে চুপকথায় স্বাগত। আপনি আমার বব্লগ পড়েন এটা আমি জানতাম না। খুব ভালো লাগলো।

      Delete
  2. Dinner e ebar muslim meal pakka :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. একদম, চোখ বন্ধ করে। সাথে খাইয়ে লোক নিয়ে যাস।

      Delete
  3. Joy tor lekhaye Dravid er thakey kichu kam shots nai!! r o notun notun shots er apekhaye roilam

    ReplyDelete
    Replies
    1. হে, হে দেখা যাক, কদ্দুর টানতে পারি।

      Delete
  4. প্রুফ রিডিংএ ত্রুটি হচ্ছে বলে দু'এক জায়গা চোখে লাগছে। নইলে অ্যাজ্ ইউজুয়াল্ জেল্লা ঠিকরানো লেখা।
    অর্ডার পেলে সুলভে প্রুফ রিডিং করি। প্রতি পাতা আট টাকা(বাজারের রেট দশ-বারো চলছে)।

    ReplyDelete
    Replies
    1. এটা এখনো অবধি সেরা হয়েছে। পড়ে একপেট হেসেছি। তবে প্রুফ রিডিংটা সত্যিই দরকার।

      Delete
    2. প্রুফের ব্যাপারটা সত্যি ঝুল হয়েছে। পরের লেখা থেকে আরো সতর্ক থাকবো।

      Delete
  5. প্লেনে মুসলিম ফুড কপালে জোটেনি, বলা সত্বেও দেয়নি (লুফ্‌ৎহান্‌সা)। কাজেই তোমার বিবরণ পড়ে দীর্ঘশ্বাসটা দু-দমকা বেশি পড়লো। :(
    লেখা অসাধারণ হচ্ছে, এবং আমার মতে, তুমি যে অর্ডার মেনটেইন করছো না, তাতে লেখাটা আরো স্বাদু হচ্ছে। :)
    পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    ReplyDelete
    Replies
    1. গুড, এই যে নিয়ম না মানাটা স্বভাব হয়ে গেলো, ঘুরে এটাই না নিয়ম হয়ে যায় :)

      Delete
    2. তখন আবার নিয়ম মেনো, নিয়ম না মানার মতন করে :)

      Delete
  6. Bengali Sir er "অদ্যভক্ষ ধনুর্গুণ" kothatar mane bujhlam na...aar "nei mamar cheye kana mama bhalo...eta lunch hole just ak glass jol jut to" eta an advice to be treasured 3:) .... seshe kebab, roast er lobhe muslim meal order kore tarpor ak glass jol pele khub e kharap lagto boiki :P

    ReplyDelete
    Replies
    1. ওটার মানে "আজকে ধনুকের গুণ খেলাম" - মানে খুবই খারাপ অবস্থা, খাওয়া দাওয়া জোটে না আর কি!

      Delete
  7. Ami aj kal tomar blog regular porchi..besh bhalo lagche pore

    ReplyDelete
    Replies
    1. good,.toke niye tahole pach jon pathok holo. please avyes ta bajay rakh :)

      Delete