ট্যাক্সি ধরলাম অফিসের সামনে থেকে। ক্লান্ত, তাই উঠেই সিটে শরীরটা এলিয়ে দিলাম। অনেক রাত
হয়ে গেল আজ। হঠাৎ ড্রাইভারের সিটের পেছনে লেখা ট্যাক্সির নাম্বারটা চোখে পড়তেই চমকে
উঠলাম।
WBGK 0905 – নাইন্থ মে। বাবার জন্মদিন। চলে গেছে। আজ টেন্থ
মে। অফিসের চাপে বাড়িতে কিচ্ছুটি করা হয় নি। মুখে বলাও হয় নি।
অসহায়ভাবে বলে উঠলাম, “দাদা,
আরেকটু জোরে”। কলকাতা শহরে শুক্রবারের অফিস-ফেরতা জনতার
অবশ্যই কোনো তাড়া নেই। ট্যাক্সি আগের গতিতেই চলতে থাকল।
![]() |
http://tinyurl.com/lf56om |
পাড়ার মোড়ে ট্যাক্সিটা ঢুকতেই ঘড়িতে আরেক’বার চোখ পড়ে গেল। সাড়ে ন’টা। বাবা আজকাল রাতে
তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েন। গিয়ে একটা প্রণাম ঠুকে বলবো শুভ জন্মদিন। বিলম্বিত হোক, তবুও
শুভ। সেটার আর বিশেষ আশা দেখা যাচ্ছে না।
রান্নাঘরে উঁকি মেরে দেখি মা লুচি বেলছে, পাশে সুরমা স্যালাড তৈরী করছে। বাবার
ঘরে আলো জ্বলছে, নাতি-দাদু মিলে কার্টুন দেখা হচ্ছে। ডাইনিং টেবিলে একটা কেক রাখা।
ও জন্মদিন হচ্ছে তাহলে।
কিন্তু দিন পেরিয়ে গিয়ে? মা যে হারে পুজো-আচ্চা দিনক্ষণে বিশ্বাস করে তাতে তো
এটা কোনোমতেই হওয়ার নয়। ব্যাপারটা কি?
সুরমা পাশে এসে ফিসফিস করে বলল, “বিছানার ওপরে পাঞ্জাবী-পাজামা রাখা আছে। জলদি চেঞ্জ করে এস। সবাই অনেকক্ষণ
অপেক্ষা করছে।”
কিন্তু রহস্যটা কি?
জন্মদিন ছিল কাল, আর কেক কাটা হচ্ছে আজ।
“দাদাই, বাবা চলে এসেছে। এসো ... এসো ... জলদি এসো। বাবা কেকের ওপরে লিখে
দাও, বড়ো করে লিখবে ... শুভ ... জন্মদিন।”
বাবলুর ভুলটা ভাঙ্গাতে চাইছিলাম না, কিন্তু তাও বলতে বাধ্য হলাম, “দাদাই-এর জন্মদিন চলে গেছে বাবলু। গতকাল
ছিল।”
দাদাই আর নাতিতে চোখাচোখি হল। হচ্ছেটা কি?
বাবলু মুখ খুলল, “কই না তো?
দাদাই বলেছে জন্মদিন নাইন্থ মে, বাংলায় ছাব্বিশে বৈশাখ। নাইন্থ মে চলে গেছে,
কিন্তু আজ তো ছাব্বিশে বৈশাখ।”
bhalo tobe arektu beshi hole mon khush hoye jeto.......:)
ReplyDeleteei kothata ABP ke keu bojhale boro valo hoy .. matro 300 shobde lekha jomano boddo mushkil, ar jodi ba jome, sei doi ta hoy na ..
ReplyDeleteঅসাধারণ !
ReplyDelete(আম্মো একটা গল্প লিখে পাঠিয়েছিলাম | কিন্তু ABP তার উত্তর দেয় নি | কী করে যে কাউকে পড়াই ?)
ব্লগ সমুদ্রে ছেপে দিন, সক্কলে পড়ি।
Delete