সূত্রঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের সদস্য মুশফিকুর রহিম নিজের ফেসবুক পেজে একটা পোস্ট করেন। টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারার পরে।
https://www.facebook.com/MushfiqurOfficial/posts/10153991239907012:0
ঘটনাঃ
প্রতিক্রিয়াঃ (অনিবার্য কারণ বশত, চাপাতির হাত থেকে গলা বাঁচাতে নির্বাচিত মন্তব্যকারীদের নামোল্লেখ করা হল না। বানান এবং ব্যাকরণের দায়িত্ব অবশ্যই তাঁদের।)
১) ভাই ছক্কা মারার চেষ্টা না করে ঠেকাই ঠেকাই ২টা রান নেয়া জাইত।বাদ দেন।
২) আমরা পাকিস্তান কে শত্রু মনে করি। হ্যা তারা শত্রু। কিন্তু আমাদের এই দুর্দিনে পাকিস্তানী ক্রিকেটারগণ পাশে দাড়িয়েছে।শহীদ
আফ্রিদি, ওয়াসিম আকরাম, শুয়েব আকতার দেরমতো তারকারা সমর্থন দিয়ে আসছে
আমাদের।.তারা চাইছে তাসকিন ও সানিরা আবার ফিরে আসুক।যারা দুর্দিনে পাশে
দাড়ায় তারাই তো প্রকৃত বন্ধু।
৩) আপনার কমেন্টটা পরে কান্না এসে গেল ভাই । এত ক্ষোভ কি কিভাবে পুষে রাখেন ভাই।
৪) সোজা হইয়া দড়াইয়া খেলতে পারে না,ঘুইরা খারাইলে তো আরো পারবো না। ঘুরে দড়ানোর দরকান নাই।
৫) ভারত অনেক হারার চেষ্টা করছে।।৩ টা ক্যাচ মিস করছে।।কিন্তু আমারাই ওদের হারতে দেই নি।।কি দরকার দাদাদের কষ্ট দিয়ে।।।
৬) এখন ভারত পাকিস্তান অনলাইনে মিলে আমাদের বাঁশ দিতেছে।
৭) কাল আমরা দেখেছি ইতিহাসের সবচেয়ে স্বরনীয় ম্যাচ। আমরা দেখেচি ৯৯ - র সেই অষ্ট্রেলিয়া বনাম সাউথ আফ্রিকা ম্যাচ।
আমরা নিজেদেরকে সাউথ আফ্রিকা ভাবতে পারি।
৮) ২ টা চার মারার পর ছাগলের মত লাফালাফি করলো .. মনে করছে তখনই খেলা জিতে গেছে .. আরো যে ২ রান বাকী ছিল , সেটা করার আগেই আউট ..
৯) ভাই
তোমার কোনো দোষ নাই।।it's just happen..... amra মাতরো ১ রান এর জন্য
হারছি।।মুশফিক ভাই তুমি যদি ২টা চার না মারতা তাহলে ৯ রান এ
হারতাম।।।it's ok bro.nxt time hoba inshallah
১০) #আমি আজকে শপথ নিলাম ,বাংলাদেশ যেদিন T20 তে ইন্ডিয়াকে হারাতে পারবে আমি সেদিন ক্রিকেট খেলা দেখবো,তার আগে না ৷৷
১১) যারা
বলছেন এটা একটা লার্নিং প্রসেস, বুলশীট। we have played enough
professional cricket! ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনালে তাইলে কি শিক্ষা
নিসিলাম?যারা বলছেন ওরা আমাদের থেকে ভাল খেলা বুঝে, ভাই, ২ বছরের পিচ্চিও
বুঝে ৩ বলে ২ রান দরকার হলে ছয় না মেরে সিংগেল নিতে হয় EnD of The DaY : পাশে ছিলাম পাশে আছি & পাশেই থাকবো ইনশাল্লাহ
১২) নিজের gf (full time)সাথে যদি breakup হতো তারপরেও এত কষ্ট পেতাম না এই খেলার জন্য যে কষ্ট পাইছি ....my heartbroken
১৩) এক
মিনিট নীরবতা তাদের জন্য। যারা বাংলাদেশ হারার পরে স্ট্যাটাস মারে, "আর
ক্রিকেট খেলা দেখমু না"। ভাই রে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি বাংলাদেশ বনাম
নিউজিল্যান্ড ম্যাচে তুমিই সবার আগে টিভিসেটের সামনে বসবা।
১৪) ইন্ডিয়ারে দাত ভাঙ্গা জবাব দিতে একটা জয়ই চেয়েছিলাম তদের কাছে!!
আর উলটো তরা দেশের মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করলি??
জীবনেও তরা ছক্কা মারিস নাই??
১৫) আমাদের
চোকের জল ধেকে রাতে আকাশটা কান্না করেছিল।সব কিছু দরে রাখতে পারি কিন্তুু
চোকের জল দরে রাকতে পারি না।যদি তুরা 10-20 রানে হারতি আমারা কষ্ট পেতম
না।কিন্তুু বিজয় এর পতাকা তুলে হেরে গেলি।এর ছায়তে কষ্ট আর কিছু নাই।
১৬) একটা সময় ছিলো, বাংলাদেশ মানে শুধুই হার এবং হতাশা। আর এখন সময়টা হচ্ছে বাংলাদেশ মানেই আতংক।
১৭) আমিও
একজন খুব ছোট খেলোওয়ার আমি দুবাইতে পাকিস্তানি এবং ইনডিয়ার সাথে অনেক
ম্যাচ খেলেছি।তারা ছোট খেলারী। আমরা ৮/১০ ঘনটা কাজ করার পরে সুজা মাঠে চলে
যাই। আমরা টেপ টেনিজ দিয়ে খেলি। তবুও আমি বলিব যে তিনটি বল শেষে আপনারা যে
খেলছেন। যদি সেই তিনটি বল আমরা খেলতাম তা
হলে। আমি প্রথমে একটি রান নিয়ে ম্যাচ সমান সমান করতাম। তারপরে যে কোন
খেলোয়ার ২ বলে ১ টি রান নিয়ে নিত। জয় আমাদেরী হত।আর আমি হলে ২ বলে একটি ৪
মেরে খেলা শেষ করে দিতাম।
১৮) আজকের
খেলার শেষ বলের চাপ সইতে না পেরে উত্তর ডারবানে মোহাম্মদ ইনাম আলী (৩৮)
নামের এক বাঙালি হার্ট অ্যাটার্ক করে মৃত্যু বরণ করেছে। ইন্নালিল্লাহী ওয়া
ইন্নাইলাহী রাজেউন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করুক। আর কিছু বলার নাই। news
from south africa
১৯) মনের রক্ত ক্ষরণ আর চোখের পানি কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না । চোখ বুঝলেই শেষ তিন বল দেখতেছি।
২০) আজ ধোনির চোখে কান্নার বদলে মুখে হাসি, কঁদছি আমরা ১৬ কোটি বাংলাদেশি।
২১) ফর্মে ফিরছেন এইটাই
অনেক.....Good luck vai.....but vai world cup এ india রে হারাতেই
হবে....নেপালের সাথেও হারেন we dont care..but indiar সাথে এবার কোন ভাবেই
হারা যাবেনা.. যাই হোক না কেন
২২) সাব্বাস
হার্দিক পান্ডিয়া! ° তিন তিনটা বেয়াকুফকে ক্রিকেট যে কুতকুত খেলা না তা
বুঝিয়ে দিবার জন্য ধন্যবাদ! ° সহ্যের একটা সীমা থাকা উচিৎ! কোন বিশ্বাসে
আমি ভবিষ্যতে ওদের সাপোর্ট করব,যারা কিনা ৩ বলে মাত্র ১টি রানও নিতে
পারেনা! ° কথা দিয়েছিলাম খারাপ সময়ে পাশে থাকব।। এটাকে খারাপ সময় বলেনা।
এটাকে বলে বিশ্বাসঘাতকতা! ° খুব কষ্ট পাচ্ছি। বলে বুঝাতে পারব না।
২৩) আর
কত মখা বানাইবেন আমাগো?আসলে আপনাদের দোষ কি, দোষটা আমাদের একটু বেশি
প্রত্যাশা করছিলাম আপনাদের উপর।দায়িত্ব হীন ব্যাট করে তার প্রমান
দিলেন।তিন বলে ২ রান লাগবে আর ক্রিজে আপনার দুইজন এক্সপেরিয়েন্স
ব্যাটসম্যান। হারলেও বাংলাদেশ জিতলেও বাংলাদেশ কিন্তু তার দামটা আপনারা
রাখলের না।
২৪) গতকালের
খেলায় বাংলাদেশের হারাটা অসম্ভব ছিল কিন্তুু তোমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে
দেখিয়েছো,এজন্য সাবাস তোমাদের। আমার যতটুকু ধারনা বাংলাদেশের ১৬ কোটি
মানুষের কথা তোমরা একটুও মাথায় রাখোনি ব্যাং এর মতো অবস্থা একটু ভালো খেলায়
কিছুদিন যাবৎ সবাই তোমাদর পাম(হাওয়া) দিয়েছে আর সেই অতিরিক্ত পামে তোমরা
ফেটে গেলে, আসলে এটাই তোমাদের আসল চেহারা।
২৫) পাকুদের
সাথে শতবার হারলেও এতো কষ্ট লাগতোনা!!যাক যা হবার হয়ে গেছে!!তবে খুব ভালো
লাগলো যখন দেখি শেষ ওভারে ধোনির চোখ ছলছল করছিলো!! আজ না হয় আমরা ১৬ কোটি
মানুষ ৩২ কোটি মানুষের জন্য সেক্রিপাইচ করছি!!<<all the
best>>সাথে ছিলাম সব সময়,,সামনে ও থাকবো.....
২৬) রিয়াদ
ভাই আর আপনি আমাদের স্বপ্নটা ভেংগে খান খান করে দিয়েছেন। যখন ১২ বলে ১৭
রান দরকার তখন বিগ হিট নেন নাই,কিন্তু যখনই ৩ বলে ২ দরকার তখন আপনাদের
ডানায় সুপারম্যান ভর করলো কেন???
২৭) আর
কতো শিখতে হবে বস, এখনতো শেখানোর বয়স চলে এসেছে... প্রতিদিন ঢোল/ড্রাম
নিয়ে বসতে আর ভালো লাগে না, সেদিনটা কবে যেদিন শুধু আয়েসি ভংগিতে বসে খেলা
দেখবো আর আসে পাশের ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের লোকজনকে ভাবের সাথে বলবো "ITS a
gentleman play"।
২৮) মায়া কান্না করে লাভ নেই।দুই শালা, স্বমন্দি মিলে আমাদের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিছিস।সালা এত বুড়া হইয়ে গেছিস এখনো ম্যাচিউরিটি আসে নাই।
কাহিনী শেখাও।পাতানো ম্যাচ খেলে ১৬ কোটি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা কে ধুলোয়
মিশে দিছ। এই বয়সে ম্যাচুরিটি না আসলে ভাই পদত্যাগ কর।
২৯) বাংলাদেশ
হারছে তাতে অাফসোস কিসের পাগোল? আরে ভাই তাসকিনটা তো মাত্র হাটতে শিখলো,
সৌম্য একটু দৌড়ায়, সাব্বির অার রিয়াদ মাকে ছাড়াই স্কুলে যেতে শুরু
করেছে সবে। সাকিব, মুশফিক কি অার করবে দুই জন। অার মুস্তাফিজ, রনি তো মাত্র
এখনো ফিডার ছাড়েনি। তবে জানিস...!!
মুস্তফিজ খুব তেজী হবে রে। এই টুকু বাচ্চা কি যে সাহস নিয়ে শিকারির উপর
ঝাপিয়ে পরে, সে অার বলবো কি? সব কটা বাঘের বাচ্চাকে বড় হতে দে। তারপর
সামনে দাড়িয়ে শুধু ইশারা করবি,(মাশরাফি) অার দেখবি শিকার কিভাবে ছিড়ে
খায়। অনেক রাত হলো, অাহত বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমিয়ে পর। স্বপ্ন দেখ নতুন অার
একটা ভোরের।
৩০) ক্রিকেট খেলা স্রিস্টি হবার পর তেকে এরকম ১০০% ভালো পজিশনে তেকেও কুনো দল হেরেছে..........?
৩১) এক রানে কি কেউ হারে?....উত্তর দেন.....Answer me......
৩২) আমি
cricket খুবই. ভালো বাশি ..আমি New Zealand থাকি. বাংলদেশর সাথে সময়.
এখানে 7 ঘন্টা ডিফারেন্ট তাই বাংলদেশর টাইম ওনুজাই আমাদের এখানে রাত 3 টায়
খেলা শুরু হয়েছে..রাত 3 টায় উঠে খেলা দেখে ..সকাল 7 টায় খেলা শেষ করে
আবার. আমার ডিউটিতে গেছি ...কি আর বলবো
৩৩) কিন্তু
একটা কথা হয়তো জানস। Bangladesh score => 32+29+20+22+29+9 = 141 run
then 141+5 extra =146 run. তাহলে আমরা 145 run নিয়ে 1run e কেনো হারসি?
৩৪) আমাদের
বিসিবি মেরুদণ্ডহীন, বাংলাদেশের সব্বাইকে ব্যান করে দিলেও তারা প্রতিবেশীর
জন্য ফুল আর ইলিশ মাছ নিয়ে দাড়িয়ে থাকবে।
৩৫) ভিক্ষা দিলাম এইবার এক রান ।ওদের বুকে পাড়া দিয়া ধরছিলেন । দম যাওয়ার আগে পা ফশকায়া গেছে ।
৩৬)
১২ বছর যাবত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন আর কিভাবে ৩ বলে ২ রান নিতে হয় সেটা
জানেন না। তদের কে বলেছে জাতীয় দলে খেলতে। ওদের প্লেয়ার বাউয়ান্ডারি কাছে
ছিল ব্যাট দিয়ে খুচা দিলেই দুই রান হয়।
৩৭) পারলে অবসর নেন।দলে টাইগার দরকার ছাগল না।
৩৮) ধনী
যখন... - চোর বাটপারের মতন একটা বলের পর হাজার হাজার মিনিট সময় নিয়া
বলার এর কাছে গিয়ে কথায়... - ফিল্ডার একটা এখানে, আরেকটা ওখানে নিয়া
একের পর এক কথা বইলা, ব্যাটস ম্যানের মোটিভ চেঞ্জ করে... ...তখন কি
বাংলাদেশ দলের কেউ ছিলো না; যে এক দৌড়ে গিয়ে বলে আসবে, দুই বলে দুইটা রান
নিয়ে জিতে আয়। বাউন্ডারি দরকার নাই।
৩৯) আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস আপনারা কালকে কেড়ে নিছেন ভাই ''ঘুম''
৪০) আপনি আউট হয়েছেন ঠিক আছে ,কিন্তু যাওয়ার সময় রিয়াদ ভাইকে তো বলে যেতে পারতেন যেন ,একই ভুল তিনি না করেন।
৪১) তোর ২ টা ভালো শটেই জিতার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল, অাবার তোর ১ টা বাজে শটের কারনেই অামরা হেরে গেলাম...
অামি তোকে বলতেছিলাম, অাগে একটা সিঙ্গেল নিয়ে ম্যাচ ড্র কর।
তুই বড় শট খেলে বাহাদুরি দেখাইতে গেছিস...
হাতে যদি কমপক্ষে ৫/৬ টা বল থাকতো, তবে তোর ওই বাজে শট টা ঠিক ছিল...
বি.পি.এল এ মাঠে থেকে ২ ম্যাচ ১/২ রানের জন্য হারলি...
কারন, তুই ১ রান নিতে গিয়ে বলার কে স্ট্রাইক দিয়ে দিলি,১ দিন মেনডিস কে, অারেক দিন শহীদ কে...
তারপর নন স্ট্রাইকে দাড়িয়ে দাড়িয়ে দলের হার দেখলি...
সেই থেকে তোর ব্যর্থতা শুরু...
তবুও সাপোর্ট দিয়ে গেছি। জানি, তুই ই অামাদের মিঃ ডিপেন্ডেবল।
অাজ পারতি এত দিনের ব্যর্থতার ক্ষতে প্রলেপ লাগিয়ে দিতে।
কিন্তু, উল্টু ক্ষতটা বাড়িয়ে দিলি...
পাকিস্তান কে হোয়াইট ওয়াশ করেছি ঠিকই,এই এশিয়া কাপেও হারিয়েছি...
তবুও ওই ২ রানের জন্য হৃদয়ে যে ক্ষতটা হয়েছে, মনে হলেই সেখানটায় ব্যথা করে রে...
অাজ যে অাশার বাণী শুনিয়েছিস, মানছি সেটা...
তবে এই যে ১ রানের ক্ষত, এটা কিভাবে শুকাবে বলতে পারিস.? অাদৌ কি শুকাবে.???
এই যে এত কথা লিখছি, চোখ থেকে টলটল করো অশ্রূ ঝরছে...
কথাগুলো হয়তো তুই পড়বি না...
তোর এডমিনও পড়বে কিনা জানি না, তবুও লিখলাম।
ফিরে অাগের চেয়ে অারও ভালো ফর্ম নিয়ে...
মনে রাখিস,
ক্রিকেট শুধু ৪,৬ এর খেলা না। টি-২০ ক্রিকেট মানেও শুধু ৪,৬ নয়...
এটা বুদ্ধিরও খেলা...
শুধু বাহুর,অার কব্জির জোর নয়,মনের জোর দিয়েও ক্রিকেট খেলতে হয়...
এভাবে অার কাঁদাইস না অামাদের...
সাথে ছিলাম, সাথে অাছি.....
কথা দিলাম, সাথে থাকবো, অার বলবো.... " সাবাস্ বাংলাদেশ "
৪২) হ্যা, এটা ঠিক, কালকে আপনাদের (+মাহমুদুল্লাহ)আউট হবার ধরনে কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু তারপরেও আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আপনাদের অবদান ভুলে যাচ্ছিনা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালাবাসাটাও একবিন্দু কমেনি। এটাও অস্বীকার করিনা যে, স্মরণ কালের মধ্যে এত উত্তেজনার ক্রিকেট আর দেখিনি, এ জন্যেও আপনাদের একটা ধন্যবাদ নিশ্চয়ই পাওনা। আমাদের ক্রিকেট এখন পরাশক্তির কাতারে, এ জন্যেও আপনাদেরইধন্যবাদ......। আর হ্যা, প্লিজ এ রকম খেলা আর খেলিয়েন না রে ভাই, আর একটু হলে জানটাই বেরিয়ে যেত ......।
৪৩) গতকালের ম্যাচের ফলাফল মেনে নেওয়ার মত নয়। এতো ভালো খেলার পরও যদি আমরা সাফল্য না পাই তাহলে বলার কিছুই নাই, শুধু এটুকই বলল বাঙ্গালী cricketer দের Hidden কোন problem আছে..... তা না হলো এত closed একটা ম্যাচ আমরা হারতাম না।।
৪৪) ভাই তোমাদের খেলা দেখার জন্য বউ এর সাথে ভেজাল করতে হয়।তবুও তোমাদের খেলা দেখি।ভারতের সাথে হারটা যে এত কষ্টদায়ক ছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।তোমরা যদি আর একটু মনোযোগ দিয়ে খেল তবে আমরা প্রত্যেক ম্যাচ জিতব।তোমাদের সাথে ছিলাম,আছি,এবং থাকব।best of luck next match.
৪৫) রবার্ট ব্রুস অনেক বার যুদ্বে হারছে কিন্তুু পরে ইংলেন্ডের রাজা হইছে, so bangladesh ও পারবে
৪৬) No we can do nothing. its proved again. আসলে সৃষ্টি কর্তা কে এভয়েড করে কোন কিছুই যে সম্ভব না গত কাল কের ম্যাচটাই তার একটা বর প্রমান। অনেকেই অনেক পোস্ট দিসেন দেক্তাসি, আম্পআয়ার, ইন্ডিয়া, তাস্কিন আর মেলা কিছু............। কিন্তু আমার ক্রিকেত অভিজ্ঞতা বলে যে গত কাল বাংলাদেশের খেলয়ার দের মাথা থেকে কিছু জিনিশ গায়েব হইয়া গেসিল। জিনিশ গুল হলঃ ১। ক্রিকেট সেন্স, ২। ক্রিকেট ট্রি ক্স, ৩। এত বসরের অভিজ্ঞতা। তবে এই গায়েব ডা করল কে ডা?
৪৭) নব্যপ্রস্তরযুগ থেকে দলে খেলেতেছেন, আর কত শিক্ষা গ্রহণ করবেন?
৩ বলে ২ রানের খেলাতে করলেন জিরু রান আর দিয়া দিলেন ২ উইকেট।
এবার নিজের অবস্থান বিবেচনা করেন, দল থেকে সেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত আপানার আর মাহমুদুল্লার।
Actually বাংলাদেশর যেন জেতার অভ্যাসটাই নাই, কিনারাতে giye হারাটাই নিয়তি হয়ে দাড়িয়েছে।।
৪৮) হারেন সমাস্যা কি! কম ম্যাচ তো হারি নাই কিন্তু এভাবে হারলে মানা যায় না। একজন ভূল করতে পারে কিন্তু দুই জন! আসলেই এটা মানা যায় না আর শুভাগত! উনি তো বল এ দেখে না গা দিয়া ঠেকালেও ম্যাচ টা ড্র হইত। প্রফেশনাল হতে হবে ভাই।
৪৯) এখন থেকে আফগানিস্তান এর খেলা দেখবো। আর তাদের কেই সাপোর্ট করবো। বাংলাদেশের কালকের খেলা দেখে সারা রাত এর ঘুমটা nosto হইছে। জীবনে আর না জিতুক কালকের ম্যাচটা জিতলে বাংলাদেশের কাছে আর চাওয়া ছিলো না।।। বাংলাদেশকে দিয়ে আর কোনো আশা নাই। ৬ পারে না মারতে, ৩ বলে ২ রান লাগে ঐ সময় মুুশফিক ৬ মারতে যায় সাহস কত? single কেমনে নিতে হয় india কাছ থেকে শিখে নিও। যত সব ,,,,,, শুধু বিসিবি তাদের পিছনে টাকা খরচ করে।
৫০) ৩ বলে দরকার ২ রান।ক্রিজে আছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য,অভিজ্ঞ,শীতল পেশাদারি ক্রিকেটার মুশি আর অন্য প্রান্তে আছেন সাইলেন্ট কিলার, ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড়, চাপের বাপ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।কোনো বাউন্ডারির দরকার নাই।শুধু ১ টা সিঙ্গেল হলেই ম্যাচ টাই অথচ সেই ৩ বলে কিনা ০ রানে ৩ উইকেট।মানতে পারছিনা.....পারছিনা...পারছিনা....সব কিছু "Sorry " বললেই মাফ করা যায় নারে ভাই....খুব কস্ট পাইছি।ইচ্ছা করছে ক্রিকেট খেলা দেখাই ছেড়ে দেই.....কিন্তূ কি করার হারলেও বাংলাদেশ, জিতলেও বাংলাদেশ।
৫১) ভাই এভাবে আপনারা আমাদের কেন কাদালেন..যদি single niten তাহলে কি খুব ক্ষতি হত!!! কিন্তু মোস্তাফিজ ত পারত একটু ফাষ্ট হতে.ধনির বাচ্চা এত দুর হতে এসে stamping krlo এটা মানতে পারছি না ভাই???
৫২) মায়ের গর্ভথেকে কেউ শিখে আশেনা প্রকৃতির নিয়োম অনুশরে ধীরে ধীরে শিখে, তোমার এতো দিনের অবিগ্যতা থেকে কি শিখলে,? নির্বুদ্বিতার পরিচয় দিলে, যদিও দুঃখ পেয়েছি তার পরও হতাশ হইনি, আশারাখি ভালো কিছু পাবো+হবে সামনে,
৫৩) তুমি কড়জোড়ে দেশবাসির কাছে মাফ চাও।কারন তুমি world class stupid.নিজের ভায়রা ভাই কে ও হিরো হতে দিলানা।তুমি single নিলে কি ম্যাচ জিতাইছো সবাই বলতো না? তুমি বরং অবসরে যাও।এমন পিচিচ কবুতর আমাদের দরকার নাই।১৬ কোটি বাংগালি তোমাকে এখন ভিলেন মনে করে।
৫৪) পুরা game টা আমাদের হাতেই ছিল। last 3 balls 2 runs nedded. এই সময়ে ছয় মারতে যাওয়ার কনো দরকার ছিলনা। উচিত ছিল একটা single বের করে ম্যাচ টা ড্রো করা। ok no problem এইখান থেকে sikkha নিয়ে এগিয়ে যাও bangladesh....
৫৫) দোয়া করি যেন সারা জীবন এরকম টাই ঘটে!!!এক রাতে ঘুমাতে পারি নাই"!আর ফিউচারে ঘুম বাদ দেয়ার ভুল করব না।this my decision
৫৬) তবে সিনিয়র খেলোয়াড় কে সব সময় দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়,
সময় বুঝে,
দু জনই সিনিয়র প্লেয়ার,
কালকের এই সট দুটো খেলা মোটেই উচিৎ হয়নি,
কারণ সিংগেল রান নিলেই ম্যাচ জিতে যায়, এখানে সট কেন খেলবো???
আর দু ভায়রাই একই সট খেলা, বুঝলাম না,
নাকি দুই ভায়রা মিলে আমেরিকা তে কটেজ বানানোর লোভ হয়েছিল,
?????????????
লোভ লালসা একটা ভাল প্লেয়ার ধংস করে দেয়,
কাল ১৬ কোটি বাংগালির ৩২ কোটি চোখের অশ্রুকণায় বন্যা বয়ে গেছে
এটাও বুঝতে হবে,
আমেরিকার কটেজের সুখের চেয়ে বাংলার কুড়ে ঘরের সুখ বেশী তৃপ্তি দায়ক@
৫৭) ৩ বলে ২ রান নেওয়া কি অসম্ভব ছিল?তোমাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন, কি করেছ তোমরা।জাতিকে একটা তামাসায় পরিনত করেছ।
৫৮) প্রথম 3বলে 9 পরের 3 বলে 3 out।ঐ সময় তো 6 মারার সময় না ওটা সিংগেল বের করার সময় ।এই simple জিনিসটা তোমাদের দুই ভায়রার মনে কি একবার ও আসে নাই?তোমাদের দুজন কে শ্বশুর বাড়ি থেকে নির্বাসিত করা হোক।
৫৮) বাংলাদেশ হারছে তাতে অাফসোস কিসের পাগোল? আরে ভাই তাসকিনটা তো মাত্র হাটতে শিখলো, সৌম্য একটু দৌড়ায়, সাব্বির অার রিয়াদ মাকে ছাড়াই স্কুলে যেতে শুরু করেছে সবে। সাকিব, মুশফিক কি অার করবে দুই জন। অার মুস্তাফিজ, রনি তো মাত্র এখনো ফিডার ছাড়েনি। তবে জানিস...!! মুস্তফিজ খুব তেজী হবে রে। এই টুকু বাচ্চা কি যে সাহস নিয়ে শিকারির উপর ঝাপিয়ে পরে, সে অার বলবো কি? সব কটা বাঘের বাচ্চাকে বড় হতে দে। তারপর সামনে দাড়িয়ে শুধু ইশারা করবি,(মাশরাফি) অার দেখবি শিকার কিভাবে ছিড়ে খায়। অনেক রাত হলো, অাহত বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমিয়ে পর। স্বপ্ন দেখ নতুন অার একটা ভোরের।
৫৯) প্রশিক্ষণ, প্রাকটিচ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো হলো অনেক, এখন আমাদের স্বনামধণ্য ক্রিকেটারদের শুধু ক্রিকেটীয় গণিত শেখানো উচিত (বিশেষ করে মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহকে) কখন ১, কখন ২ ,কখন ৪, কখন ৬ নিতে হবে ....কখন ম্যাচ টাই করে উইনিং রানের জন্য খেলতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি ।
৬০) আমি কি বিশ্বকাপ চেয়ে ছিলাম।
উওর ঃনা
আমরা কি বলেছিলাম ২ বলে তিন দরকার ছক্কা মারতে
উওর ঃ না।
তাহলে কেন এমন অসহায় হতে হলো?
আমাদের আবেগ নিয়ে খেলার কোন অধীকার আছে কি?
উওরঃনা।
আমরা চাই নি কাপ চেয়ে ছিলাম শুধুমাএ একটা জয় আর এটা হোক ভারতের বিপক্ষে,হয়েও কেন হলো না, তা আমরা সবাই জানি, মাএ তোমাদের খামখেয়ালি সামান্য ভূল পুরো জাতিকে শুধু কাঁদালোই না অপমান, অপদস্ত পরোনের লুঙ্গী টাও খুলে ফেলছো।।।।
কিন্তু কেন?
আর কত
কাঁদবো?
তোমাদের সকল জয়কে ম্নাল করে দিয়েছে একটি মাএ পরাজয়।।।।
#তোমরা এখন আর অবুঝ বালক না, সাবালক হয়ে গেছো, কি করে মনকে বুঝায় বলো,,
তোমাদের পিছনে মাসে যা খরচ হয় তাদিয়ে বাংলাদের অর্ধেক মানুষ খেয়ে সুখে জীবন যাপন করবে,
এছাড়া বলার আছে অনেক কিছু।।।।।।
#এতকিছুর পরও ভালোবাসি বাংলাদেশকে ভালোবাসি তোমাদের, আছি থাকবো, পিলিজ
এমন করে আর কাঁদতে চাই না আর পারবোও না,,,,
পিলিজ ডু সামথিং ফর আস্,,,,,,,,
উই know you's can...... Best of luck....
--
** পুরো কমেন্টের পাঁচ শতাংশ'ও পড়া হয়ে ওঠে নি। নিশ্চয়ই অনেক মণি-মুক্তো বাকি থেকে গেল। ফ্রান্সিসের নেতৃত্বে ভাইকিংরা আসছে সেগুলো তুলতে।
অনেকটা আঁতলামো, কিছুটা খ্যাপামো - অতএব অ-আ-ক-খ :) ভালো খারাপ যাই লাগুক, সেটা নিচে লিখুন। চুপকথায় এসেছেন যখন আপনাকে তো কাল্টিভেট করতে হচ্ছে !
Friday, March 25, 2016
Thursday, February 11, 2016
মাথাও বাইরে, লেজ’ও বাইরে
কোন বাড়ি থাকে না সবাই গান গাইতে ভালোবাসে। তারপর দিদিগিরিতে গিয়ে বলে আমার বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই গানের পরিবেশ রয়েছে।
আমাদের বাড়িতেও সেরকম একটা জিনিস রয়েছে।
আমাদের বাড়িতে সবাই কথা বলতে ভালোবাসে। কেউ কেউ আবার সাধারণ কথাই মনোগ্রাহী করে বলতে পারেন। আমার কাকু সেরকম। কাকু পিসীকে খাওয়া-দাওয়ার বিবরণ দিচ্ছেন। বাড়িতেই খাওয়াদাওয়া হয়েছে। পিসী দিল্লি-নিবাসী, এসে উঠতে পারেন নি।
বিরতি’গুলো খুব ইম্পর্ট্যান্ট। ঠিক ঠিক জায়গায় থেমে থেমে পড়তে হবে।
--
বুঝলি, প্রথমে হচ্ছে বড়ি দিয়ে লাল শাক ... তার পরে ... হচ্ছে ... শুক্তো ... ফ্যান্টাস্টিক শুক্তো। শুক্তো দিয়েই পেট ভরে গেছে।
তার পরে ... হচ্ছে ... ডাল ... মুগের ডাল, আর ঝুরি ঝুরি আলু ভাজা ... বাদাম দেওয়া তার মধ্যে ... ভাজা।
তিন নম্বর হচ্ছে ... বিশাল একটা কাতলা মাছ ... মানে কাতলা মাছটা যে দিয়েছে, আমার প্লেটের বাইরে পড়ছিল মাছটা।
এবং প্র-চু-র তেল, পুরোটা খেতে পারলাম না। কেননা তাঁর পরবর্তী যা যা ছিল দেখে নিয়েছিলাম না, তাই ওটার ওপরে কন্সেন্ট্রেট করলাম না।
তারপরে হছে পাবদা মাছ। তার মাথাও বাইরে, লেজ’ও বাইরে।
তারপরে এলো গলদা চিংড়ির মালাইকারি। এতগুলো খাওয়ার পর ... সেই জহরদা একটা গল্প করত না ... ওদের কাজের একটা মাসি ছিল, তার বাচ্চাটা ... খেতে দিলে কিছুক্ষণ পরেই কাঁদতে থাকত। তো সবাই বলছে কাঁদে কেন ও? বলে ওর পেট ভরে গেছে ... কিন্তু খাবার রয়ে গেছে, সেইজন্য কাঁদছে ... খেতে পারছে না।
তারপরে হল চাটনি, পাঁপড়, দই। আর দইটা তো ফ্যান্টাস্টিক, দইটা খেয়ে কেরম একটা ইয়ে হল ... মানে সুপার ফ্যান্টাস্টিক দই।
তারপরে হচ্ছে মিষ্টি, তারপরে পান উইথ দাঁত খোঁচানো কাঠি।
--
টেকনোলজি সব সব সময় খারাপ নয়। ওপরের কথোপকথন হোয়াটসঅ্যাপে শুনে রাঙ্গাদাদু (যিনি কিনা বয়েস জনিত কারণে যথেষ্ট খেতে পারলেন না) স্বগতোক্তি করলেন, এত কিছু একবারে খেতে গেলে বুকের পাটা থাকতে হয়।
Tuesday, February 9, 2016
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে
সম্বিত, সাত পাতা লেখার কথা ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল প্রাইজ গ্রহণ করেন। কই?
সম্বিত চুপ।
তিন পাতার পরে তুমি একটা কাকের ছবি এঁকেছ, নিচে লিখেছ ... কি লিখেছ এটা?
স্যার ... অমল কুমার চৌধুরী।
আঃ, আমার নাম জানতে চাই নি, কি লিখেছ সেটা বল?
স্যার, আপনার নাম'ই লিখেছি।
কেন?
না লিখলে আপনি রেগে যাবেন। আপনার মুখ মনে পড়ছিল, সেটা আঁকতে পারিনি। কাকের ছবি তো সোজা। আর নিচে আপনার নাম।
আর যেটা লেখার কথা ছিল, সেটা লেখো নি?
স্যার, ইচ্ছে করেছিল না। বারান্দায় একটা কাক ডাকছিল। কা কা কা ... ডেকেই যাচ্ছিল। আমি কাকটাকে দেখছিলাম।
হাতের লেখাটা মন দিয়ে অভ্যেস করলে আমার নামটা তোমায় পড়ে দিতে হত না।
--
সম্বিত এখন সকালে একটা কাঁথা স্টিচের ডায়েরী নিয়ে বসে এখন। সাথে সকালের চা। অফিস যাওয়ার আগে মিনিট পনেরো। কর্পোরেট অফিস, বস্টনে। বছর দুয়েক হল কান্ট্রি ম্যানেজার হয়েছে। কদিন বাদে হয়তো ভি পি।
কিছু লেখে - যা মনে পড়ে তাই। কিছু মনে না পড়লে, লালরঙা হ-য-ব-র-ল থেকে টোকে।
হাতের লেখা অভ্যেস করে সম্বিত।
বস্টনে কাক নেই। লেখা শেষ হলে আবার অমল কুমার চৌধুরী'র মুখটা মনে পড়ে।
সম্বিত চুপ।
তিন পাতার পরে তুমি একটা কাকের ছবি এঁকেছ, নিচে লিখেছ ... কি লিখেছ এটা?
স্যার ... অমল কুমার চৌধুরী।
আঃ, আমার নাম জানতে চাই নি, কি লিখেছ সেটা বল?
স্যার, আপনার নাম'ই লিখেছি।
কেন?
না লিখলে আপনি রেগে যাবেন। আপনার মুখ মনে পড়ছিল, সেটা আঁকতে পারিনি। কাকের ছবি তো সোজা। আর নিচে আপনার নাম।
আর যেটা লেখার কথা ছিল, সেটা লেখো নি?
স্যার, ইচ্ছে করেছিল না। বারান্দায় একটা কাক ডাকছিল। কা কা কা ... ডেকেই যাচ্ছিল। আমি কাকটাকে দেখছিলাম।
হাতের লেখাটা মন দিয়ে অভ্যেস করলে আমার নামটা তোমায় পড়ে দিতে হত না।
--
সম্বিত এখন সকালে একটা কাঁথা স্টিচের ডায়েরী নিয়ে বসে এখন। সাথে সকালের চা। অফিস যাওয়ার আগে মিনিট পনেরো। কর্পোরেট অফিস, বস্টনে। বছর দুয়েক হল কান্ট্রি ম্যানেজার হয়েছে। কদিন বাদে হয়তো ভি পি।
কিছু লেখে - যা মনে পড়ে তাই। কিছু মনে না পড়লে, লালরঙা হ-য-ব-র-ল থেকে টোকে।
হাতের লেখা অভ্যেস করে সম্বিত।
বস্টনে কাক নেই। লেখা শেষ হলে আবার অমল কুমার চৌধুরী'র মুখটা মনে পড়ে।
Monday, January 25, 2016
রজনী এবং মিঃ ভূষণ
-মিঃ ভূষণ, আপনি কি এক্সাইটেড?
-অফ কোর্স আই অ্যাম, সিলি কোশ্চেন।
-হুম্, আপনার কি মনে হয় রজনী আপনার জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন?
-রজনী কারোর জন্য অপেক্ষা করে না, সিলি এগেন।
-রজনী কি ফিনিশড্?
-রজনী এখনও বাকি, আরও কিছু দিতে বাকি।
-রজনী কি ফিনিশড্?
-রজনী এখনও বাকি, আরও কিছু দিতে বাকি।
-আপনার ফার্স্ট নামটা কি আমাদের পাঠকরা জানতে পারেন, মিঃ ভূষণ?
-ফার্স্ট নাম না জেনে ইন্টারভিউ নিতে এসেছেন, আউট, গেট আউট।
-আহা বলুন-ই না।
-পদ্ম।
- আপনার কী মনে হয় রজনীও আপনার জন্য লবি করেছেন?
- নো, নট অ্যাট অল। রজনী can't…
( শেষ লাইন-দুটো বাবার লেখা )
- আপনার কী মনে হয় রজনীও আপনার জন্য লবি করেছেন?
- নো, নট অ্যাট অল। রজনী can't…
( শেষ লাইন-দুটো বাবার লেখা )
রক্ত গরম
(১)
-অমর-আকবর-অ্যান্টনি দেখেছেন?
-না, কেন?
-বাঃ, তিনটে তাজা ছেলের গল্প।
-তো?
-কি বলছেন মশাই? হিন্দু মুসলমানের রক্ত মিশে গেল, ঝাড়পিটের সিনেমা, যাকে বলে রোমহর্ষক।
-হুম্।
-হুম মানে? বোম্বেতে থাকেন আর অমর-আকবর-অ্যান্টনি দেখেননি? জলদি দেখুন, রক্ত গরম হয়ে যাবে।
-আমি গণপতি-বাপ্পা-মোরিয়া দেখছি। মিট ব্যান। আমার রক্ত এমনিই গরম হয়ে আছে।
(২)
- কোনটা দিয়ে শুরু করি বল তো?
- কেন, ম্যাডক্স স্কোয়ার? ছোটবেলার মত। অ্যাদ্দিন বাদে বিদেশ থেকে ফিরবি ...
- নাহ্ বড্ড ভিড়।
- তাহলে নাকতলা? বড় ঠাকুর করছে। পাথ-ব্রেকিং ...
- মানে? সত্যিই রাস্তা ভাঙছে?
- এ রাস্তা সে রাস্তা নয় রে। জীবনের রাস্তা।
- না হবে না, স্পন্ডিলাইটিস আছে। অত উঁচু ঠাকুর দেখতে পারব না।
- হুম্, তাহলে কলেজ স্ট্রীট বা মহম্মদ আলি পার্ক?
- কলেজস্ট্রীটে আফটার মিডনাইট মিনারেল ওয়াটার পাব?
- তুই এক কাজ কর, এবারো তুই ম্যাডিসন স্কোয়ার-ই দেখ।
--
-অমর-আকবর-অ্যান্টনি দেখেছেন?
-না, কেন?
-বাঃ, তিনটে তাজা ছেলের গল্প।
-তো?
-কি বলছেন মশাই? হিন্দু মুসলমানের রক্ত মিশে গেল, ঝাড়পিটের সিনেমা, যাকে বলে রোমহর্ষক।
-হুম্।
-হুম মানে? বোম্বেতে থাকেন আর অমর-আকবর-অ্যান্টনি দেখেননি? জলদি দেখুন, রক্ত গরম হয়ে যাবে।
-আমি গণপতি-বাপ্পা-মোরিয়া দেখছি। মিট ব্যান। আমার রক্ত এমনিই গরম হয়ে আছে।
(২)
- কোনটা দিয়ে শুরু করি বল তো?
- কেন, ম্যাডক্স স্কোয়ার? ছোটবেলার মত। অ্যাদ্দিন বাদে বিদেশ থেকে ফিরবি ...
- নাহ্ বড্ড ভিড়।
- তাহলে নাকতলা? বড় ঠাকুর করছে। পাথ-ব্রেকিং ...
- মানে? সত্যিই রাস্তা ভাঙছে?
- এ রাস্তা সে রাস্তা নয় রে। জীবনের রাস্তা।
- না হবে না, স্পন্ডিলাইটিস আছে। অত উঁচু ঠাকুর দেখতে পারব না।
- হুম্, তাহলে কলেজ স্ট্রীট বা মহম্মদ আলি পার্ক?
- কলেজস্ট্রীটে আফটার মিডনাইট মিনারেল ওয়াটার পাব?
- তুই এক কাজ কর, এবারো তুই ম্যাডিসন স্কোয়ার-ই দেখ।
--
Monday, August 24, 2015
একশোয় একশো
অঙ্ক বরাবরই ভয় পাওয়ায়।
সেই কবে ক্লাস ফাইভে একবার একশোর একশো পেয়েছিলাম - তারপর থেকে শুধুই নব্বইয়ের ঘরে, কখনো আশির ঘরে, কখনো আরও লজ্জাজনক নিচে গোঁত্তা খাচ্ছি।
আশেপাশের স্কুলে সবাই জানে খড়দা রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের অঙ্কের প্রশ্ন হচ্ছে টেস্ট পেপারের দ্রষ্টব্য বিষয়। কি করে ছাত্রদের নাস্তানাবুদ করতে হয়, কোন অঙ্কের স্যার কতটা জব্দ করতে পারেন, তাই নিয়ে বছরভোর লড়াই। স্যারেরা বোধহয় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতেন - হুঁ, আপনি এবার ক'জনকে ফেল করিয়েছেন? ... মাত্র উনিশ জন। এ বাবা, এ তো কিসুই নয়। হেঁ হেঁ, পাঁচ বছর আগে কোয়েশ্চেন সেট করেছিলুম ... বুঝলেন, ছেচল্লিশ জন কুপোকাত। কান ঘেঁষে হাফ সেঞ্চুরি ফসকে গেস্লো। হেডু ডেকে পাঠিয়েছিল - বলে কিনা অমুকবাবু, এরকম করবেন না আর, রি-এক্স্যাম নিতে হবে শুধু শুধু। তারপর থেকে বলে কিনা একটু ঢিলা দিচ্ছি, নইলে এদের কি করে ঢিট করতে হয় ...
ক্লাস এইটে পড়তে পড়তে শুনলাম, পাশের সেকশনে একটি ছেলে দারুণ অঙ্ক করে। প্রচণ্ড শার্প, অঙ্ক দিলেই সাথে সাথে খস খস করে খাতায় সমাধান করে ফেলে।
আলাপ করার জন্য মনটা ছুঁকছুঁক।
একশোয় একশো একটা আলাদা ব্যাপার। কিরকম সব জানি সব জানি একটা ব্যাপার। স্যার যখন ক্লাসে অ্যানাউন্স করেন অমুকে এবার অঙ্কে একশোয় একশো পেয়েছে, কিরকম একটা শিহরণ খেলে যায়। পাশের সেকশনের ছেলেটা নিশ্চয়ই তার মানে কোটি কোটি বার একশোয় একশো পেয়েছে।
খোঁজ নেওয়া দরকার।
--
ক্লাস নাইনের কোচিং ক্লাসের সামনে জমায়েত বসেছে। ঠিক সকাল পাঁচটা পঁচিশে অলোকবাবু দরজা খুলবেন। অঙ্কের ক্লাস। রাশভারী টিচার, দিকে দিকে খ্যাতি।
গঙ্গার এপার ওপার, প্রাচীন কলকাতা, সদ্য কলকাতা, হবে-হবে কলকাতা, হলেও-হতে-পারে কলকাতা আর ভীষণ পচা আর মন-খারাপ-করা মফঃস্বল - সবখান থেকে পঙ্গপালের মত ছাত্র ছাত্রীর ভিড় লেগে থাকে।
সেই কবে ক্লাস ফাইভে একবার একশোর একশো পেয়েছিলাম - তারপর থেকে শুধুই নব্বইয়ের ঘরে, কখনো আশির ঘরে, কখনো আরও লজ্জাজনক নিচে গোঁত্তা খাচ্ছি।
আশেপাশের স্কুলে সবাই জানে খড়দা রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের অঙ্কের প্রশ্ন হচ্ছে টেস্ট পেপারের দ্রষ্টব্য বিষয়। কি করে ছাত্রদের নাস্তানাবুদ করতে হয়, কোন অঙ্কের স্যার কতটা জব্দ করতে পারেন, তাই নিয়ে বছরভোর লড়াই। স্যারেরা বোধহয় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতেন - হুঁ, আপনি এবার ক'জনকে ফেল করিয়েছেন? ... মাত্র উনিশ জন। এ বাবা, এ তো কিসুই নয়। হেঁ হেঁ, পাঁচ বছর আগে কোয়েশ্চেন সেট করেছিলুম ... বুঝলেন, ছেচল্লিশ জন কুপোকাত। কান ঘেঁষে হাফ সেঞ্চুরি ফসকে গেস্লো। হেডু ডেকে পাঠিয়েছিল - বলে কিনা অমুকবাবু, এরকম করবেন না আর, রি-এক্স্যাম নিতে হবে শুধু শুধু। তারপর থেকে বলে কিনা একটু ঢিলা দিচ্ছি, নইলে এদের কি করে ঢিট করতে হয় ...
ক্লাস এইটে পড়তে পড়তে শুনলাম, পাশের সেকশনে একটি ছেলে দারুণ অঙ্ক করে। প্রচণ্ড শার্প, অঙ্ক দিলেই সাথে সাথে খস খস করে খাতায় সমাধান করে ফেলে।
আলাপ করার জন্য মনটা ছুঁকছুঁক।
একশোয় একশো একটা আলাদা ব্যাপার। কিরকম সব জানি সব জানি একটা ব্যাপার। স্যার যখন ক্লাসে অ্যানাউন্স করেন অমুকে এবার অঙ্কে একশোয় একশো পেয়েছে, কিরকম একটা শিহরণ খেলে যায়। পাশের সেকশনের ছেলেটা নিশ্চয়ই তার মানে কোটি কোটি বার একশোয় একশো পেয়েছে।
খোঁজ নেওয়া দরকার।
--
ক্লাস নাইনের কোচিং ক্লাসের সামনে জমায়েত বসেছে। ঠিক সকাল পাঁচটা পঁচিশে অলোকবাবু দরজা খুলবেন। অঙ্কের ক্লাস। রাশভারী টিচার, দিকে দিকে খ্যাতি।
গঙ্গার এপার ওপার, প্রাচীন কলকাতা, সদ্য কলকাতা, হবে-হবে কলকাতা, হলেও-হতে-পারে কলকাতা আর ভীষণ পচা আর মন-খারাপ-করা মফঃস্বল - সবখান থেকে পঙ্গপালের মত ছাত্র ছাত্রীর ভিড় লেগে থাকে।
ভর্তির চাপ সামলানোর জন্য অলোকবাবু কোচিং এ আসতে ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের নাম টুকে নেন। তারপর গ্রেডিং করেন। ক্লাস এইটের রেজাল্ট বেরনোর পরে অলোকবাবুর কাছে নাম লিখিয়ে যেতে হয়। তারপর সায়েন্স গ্রুপে যে যেমন মার্ক্স পেয়েছে সেই অনুযায়ী সেরা চল্লিশ জন ছেলে-মেয়ে দুটি ব্যাচে পড়তে আসে।
স্যার খুব সময় মেনে পড়ান।
মানে দুটো ব্যাচ - দুঘণ্টা করে - একটা সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে সাতটা, আরেকটা সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে নটা। কড়া নিয়ম - স্থানীয় বাসিন্দা হলে সকালের ব্যাচে, আর খড়দহ অঞ্চলের বাইরের ছাত্র ছাত্রী হলে সাড়ে সাতটার ব্যাচ। সাড়ে সাতটার ব্যাচের স্টুডেন্টরা কোচিং থেকে সরাসরি স্কুলে যায়। সাড়ে নটায় কোচিং থেকে বেরিয়ে কোনোমতে টিফিন মুখে গুঁজেই স্কুলে ছুট। স্কুল শুরু পনে দশটায়, তার আগে ফুটবল খেলার ওটুকু অবসর বড়োই দুষ্প্রাপ্য।
অলোকবাবু ঘোর সায়েন্টিফিক মানুষ - সায়েন্স শুধু পড়ান না, মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন।
গরমকালে গায়ে সাদা ধুতির ওপরে, ভেজা লাল গামছা জড়িয়ে বসে থাকেন। ছাত্রছাত্রী নির্বিশেষে সবাইকেই অলোকবাবুর ওই টাক-এবং-খালি-গা-ফর্সা-রোগা-তুলসী-চক্রবর্তী-অবতার দেখতে হবে। কোন নতুন ছাত্র অথবা ছাত্রের গার্ডিয়ান যদি জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে ফেলে, তাহলে স্যার চটপট তাকে খানিক লীনতাপ এবং গরমকালে ভেজা গামছার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দেন।
তারপর দুটো ব্যাচের মাঝখানে অন্য ঘরে গিয়ে শুকনো গামছা আবার নতুন করে ভিজিয়ে আনেন।
--
- এই তোদের সেকশনে কে কে অঙ্কে একশো পায় রে?
- এই তো সৌমেন পেয়েছে, দীপেন্দুও পেয়েছে। দীপেন্দু আবার পর পর দু বার।
- আচ্ছা, ওই ছেলেটা কে রে? শুনছি পটাপট অঙ্ক করে ফেলে, নামটা কি যেন? শীর্ষ? নাকি শীর্ষেন্দু? ও নাকি খুব ভালো অঙ্ক করে রে? ও একশো পায় নি?
- নাহ্ ও তো কোন বারই পায় না, ওই পঁচানব্বই, ছিয়ানব্বই, ব্যস্। একশো তো পায় না।
- সে কিরে? সেদিন রাজ যে বলছিল দুর্দান্ত অঙ্কে মাথা, তাহলে একশো পায় না কেন?
- সে তো ওর চোখের জন্য। প্লাস আট পাওয়ার, পরীক্ষার খাতা দেখতে পায় না, সম্পাদ্য উপপাদ্য করতে পারে না।
- এত শক্ত অঙ্ক করে আর ওই সহজ সম্পাদ্য করতে পারে না? ওটা তো মুখস্ত।
- না রে, করতে চেষ্টা করে, কিন্তু চোখে ভালো দেখতে পায় না তো। প্লাস নাইন পাওয়ার। অঙ্কটা করে, কিন্তু সাথে ছবিটা আঁকতে পারে না। স্কেল দিয়ে লাইন টানার চেষ্টা করলে অনেক দূর দিয়ে চলে যায়।
নব্বইয়ের দশকের মফস্বলের ছেলেপুলে তো - আমরা রুলার বলতে জানতাম না, স্কেল বলতাম।
--
ক্লাস নাইনে অ্যাডিশনাল অঙ্ক পরীক্ষা। অলোকবাবু প্রশ্ন সেট করেছেন। আভাস দিয়ে রেখেছিলেন - মারকাটারি ব্যপার হবে। অ্যাডিশনাল পরীক্ষা তো - পাশ ফেলের ব্যাপার নেই। তাই অঙ্ক স্যারের বিন্দুমাত্র নৈতিক বাধ্যবাধকতাও নেই যে কিছু প্রশ্ন কষে ফেলার মত রাখতে হবে।
একেবারে হা রে রে, কেটে ফেলে দে রে।
অ্যাডিশনাল অঙ্কে একটা প্রশ্ন থাকত - খুব সহজ, বুদ্ধি খাটানোর ব্যাপার কম, মাথা গুঁজে হিসেব করে যেতে হবে। সেই অঙ্কটাকে বলা হত ট্যালি মার্ক্সের অঙ্ক। কিছু সংখ্যা, তাদের mean, median, mode ইত্যাদি বার করতে হবে। একেবারে সহজ দশ নাম্বার।
কিন্তু অলোকবাবুর বোধ হয় সে বছর প্ল্যান ছিল একটাই - মাস মার্ডার। বড়ো দাদাদের মুখে গল্পে শুনেছি (আশির দশকে যারা মাধ্যমিক দিয়েছিল, এমনকি নব্বইয়ের শুরুর দিকে), সেই ব্যাচের অনেকেই স্কুলে পড়তে অ্যাডিশনাল অঙ্কে কিছু যোগ করে উঠতে পারে নি। অলোকবাবুর তখন বোধকরি ভরা যৌবন।
আমাদের বছরে অলোকবাবু সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর ছিলেন।
তো সেই বারের ক্লাস নাইনে অ্যাডিশনালের প্রশ্নে ট্যালি মার্ক্সের অঙ্কে দেড়শোটা সংখ্যা ছিল। সহজ কথায় - করতে তুমি পারোই, দশ নাম্বার হাতের মুঠোয়, কিন্তু ঝাড়া দুঘণ্টা লাগবে তোমার। ওই দশ নাম্বার অর্জন করতে।
পুরো পরীক্ষা দুঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের, সুতরাং ট্যালি মার্ক্সের প্রশ্ন করার পরে ছাত্রের হাতে আর বিশেষ সময়ই থাকবে না। অর্থাৎ ছাত্র - তুমি কিছুতেই চৌত্রিশের বেশী পাবে না অর্থাৎ টোটাল মার্ক্সে কিছুই যোগ হবে না।
বেশীরভাগ ছেলেই তাই করেছিল। দশ-বারো-চোদ্দো পেয়েছিল, চৌত্রিশের কোঠা পেরোতে পারে নি। তাঁর আরও একটা কারণ - বাকি অঙ্কগুলোতে হাত ছোঁয়ানো যাচ্ছিল না। এক বছর পরে মাধ্যমিকে এরাই নব্বই একশো করে বাগাবে - কিন্তু সেই দিন তখনো দূরে।
শুধু চারজন ছেলে চৌত্রিশের ওপর পেয়েছিল - সঠিক মনে নেই - বিয়াল্লিশ, পঞ্চাশ, একান্ন, আটান্ন - এরকম। তাদের সকলের মধ্যে একটা মিল ছিল, তারা সযত্নে ওই ট্যালি মার্ক্সের অঙ্ক এড়িয়ে গিয়ে অন্য অঙ্কগুলো সলভ্ করার সাহস দেখিয়েছিল।
কি মনে হচ্ছে? অত্যাচার? তাই তো? আমাদেরও তাই মনে হয়েছিল। তিন বছর পরে যখন আমরা সবাই বুঝলাম যে ওই পরীক্ষাটা আসলে অ্যাডিশনাল নাম্বার যোগ করার ব্যাপার ছিল না, একটা ভবিষ্যৎবাণী ছিল - তখন আমরা আর অলোকবাবুর কাছে আর পড়ি না, স্কুলজীবন খতম। ক্লাস টুয়েলভের শেষের দিকে আই এস আই - বি স্ট্যাট এন্ট্রান্স পরীক্ষার রেজাল্ট বেরল। স্কুলের সকলের মধ্যে ঠিক ওই চার জনই চান্স পেয়েছিল। ওই যারা ট্যালি মার্ক্সের অঙ্ক করে নি।
সেই চার জনের মধ্যে একজন ছিল সেই ছেলেটি - ওই যে দারুণ অঙ্ক করত, কিন্তু একশো পেত না - শীর্ষেন্দু।
--
এরপর অনেক দিন চলে গেল। বাংলা লাল থেকে নীল সাদা হয়ে গেল, সচিন ব্যাট তুলে রেখে দিল। আর আমি একটা কনফারেন্সে বোস্টন হাজির হলাম।
ফেসবুকে নীল মেসেজ দপ দপ করছে, উইকএন্ডে নিউইয়র্ক আসবি? রোশনি, শীর্ষেন্দুর বৌ - আমাদের আদার অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং অলোকবাবুর কোচিং এর আরেক সদস্যা।
অনেক সাধারণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়। ক্রেডিট কার্ডের বিল - ও থাক, আজকে নয়, পরে দেব। বাজারে ইলিশ কিনব নাকি থাক, মাটন'ই চলুক।
কিন্তু স্কুলজীবনের কাছের বন্ধুরা যখন ডাকে, কি করে জানি সিদ্ধান্ত নেয়ার নিউরনগুলো রাতের বাইপাসের ট্যাক্সির মত ছুট লাগায়।
ঠিক দশ মিনিটের সিদ্ধান্তে বাসের টিকেট বুক করে নিউইয়র্ক যাত্রা।
নিউইয়র্কে পৌঁছে চমকে গেলাম। আমেরিকার বাকি বোরিং শহর গুলোর মত নয় তো মোটেই? রাত বাড়লেই রাস্তাঘাট ভোঁভাঁ নয়, গিজগিজ করছে লোক। খাচ্ছে দাচ্ছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেট্রোর আশে পাশে ডাঁই করা কাগজ জমে আছে - একটা বেশ অগোছালো ভাব - কলকাতা মেট্রোর সাথে ফারাক করা যাচ্ছে না মোটেই। মানুষের ভিড়ের চোটে রাত দেড়টার মেট্রোর দরজা বন্ধ হচ্ছে না।
মেট্রো থেকে ট্যাক্সি নিয়ে ওদের বাড়ি ঢুকতে ঢুকতে রাত দুটো। অত রাতে পৌঁছে গল্প। হঠাৎ খিদেয় পেট চুঁই চুঁই।
- এই তোরা খেতে দিবি না?
- আগে বলবি তো খেয়ে আসিস নি। রাত তিনটে বাজে, আমরা তো ভাবছি তোর ডিনার হয়ে গেছে।
আবার ইলিশ মাছ ভাজা, গরম ধোঁয়া ওঠা নরম ভাত। খেয়ে দেয়ে সোজা বারান্দায়। হাডসন নদীর ধারে ওদের নতুন অ্যাপার্টমেন্ট। হু হু করে হাওয়া দিচ্ছে। সতেরো বছরের জমে থাকা গল্প। গল্প এর মাঝে হয় নি তা নয়। দুধের স্বাদ যদি ঘোলে না মেটে, স্কাইপ কি করে মুখোমুখি আড্ডাকে রিপ্লেস করবে?
শীর্ষেন্দু এখনও অঙ্ক করে, কর্নেল থেকে পিএইচ ডি করে ও নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি'তে অঙ্ক পড়ায়। শীর্ষেন্দুর চোখ এখনও ঠিক হয় নি। কিন্তু ও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে, সতেরো বছর পরে দেখা হওয়া ক্লাসমেট'কে নিতে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় রাত একটার সময় অপেক্ষা করে। ডিজিটাল ম্যাগনিফিকেশন ব্যবহার করে রাশি রাশি সায়েন্টিফিক পেপার পড়ে, লেখে।
- জানিস অনির্বাণ, আমি কর্নেলে ডক্টরেট শেষ করে অন্য অনেক ইউনিভার্সিটি থেকে অফার পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন রোশনি নিউইয়র্কে পি এইচ ডি করছে, তাই একটু কমা ইউনিভার্সিটি হলেও এখানেই চলে এলাম। রোশনির পি এইচ ডি শেষ হলে অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম। কিন্তু আমরা ... আসলে ... শহরটার প্রেমে পড়ে গেছি। মানে ... আমি তো কোনোদিন গাড়ি চালাতে পারবো না, মানে আমার চোখের জন্য আর কি। আর গাড়ি ছাড়া এই দেশে ...
আমেরিকার অন্য কোন শহরে, এমনকি দেশেও আমি এভাবে থাকতে পারব না। কলকাতায় আই এস আই এর সামনে বাস ধরতে পারতাম না জানিস - বাসের নাম্বার পড়তে পড়তেই বাস ছেড়ে দিত। পরীক্ষা দেওয়ার সময় একজনকে আমার পাশে বসে লিখে দিতে হত। নিউইয়র্কে আমি মেট্রো ধরে
স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারি, আমায় অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয় না। ডিজিটাল আতশ কাঁচ ব্যবহার করে পড়তে পারি। একটু সময় লাগে, কিন্তু এই স্বাধীনতা আমি উপভোগ করি। মোদ্দা কথা - নিউইয়র্ক শহর'টা আমার ভালো লাগে।
পরের দিন শনিবার - মহা মজা। শুধু গল্প আর রান্না, রাতে ওদের বাড়িতে অনেক বাঙ্গালি বন্ধু আসবে। পট-লাক, প্রায় বছর তিনেক পরে বিদেশে বাঙ্গালী জীবনের স্বাদ। গল্প, আড্ডা, পি এন পি সি, গান, কবিতা, মার্লবোরো, স্কচ - জমজমাট ব্যাপার। ওদের বারান্দা থেকে হাডসনের ওপরে সানসেট। সেদিন শুতে শুতে দেরি হয়ে গেল।
রোববারে ঘুম থেকে কেউ উঠতে চাইছে না - ঘুম চোখে উঠে, আগের রাতের খাওয়া দাওয়া দিয়ে ব্রাঞ্চ সেরে নিউইয়র্ক ভ্রমণ।
- ম্যাডিসন স্কোয়ার, এম্প্যার স্টেট - এসব দেখবি?
- না রে, বড্ড ভিড় - অন্য কিছু বল।
- বাঁচালি, নিউইয়র্কে এসে লোকজন যে ভিড় করে কি দেখে ওই সব। চ তোকে MOMA দেখিয়ে আনি।
- মমা কি রে?
- Metropolitan Museum of Art ...
- ও আচ্ছা, চ তাহলে। ওখান থেকে কি সেন্ট্রাল পার্কে যাওয়া যাবে রে? ঐ যে যেটা ফ্রেন্ডস'এ দেখাত।
- হ্যাঁ হ্যাঁ জলদি চ, মাঝে রাস্তায় খেয়ে নেব।
MOMA তে গিয়ে শীর্ষেন্দু, রোশনি আর আমি হুটোপাটি করছি। অনেক দিন বাদে যেন মফস্বলের স্কুলের একটা অংশ উঠে এসেছে। এই যেন মমা থেকে বেরিয়ে স্কুলে যেতে হবে, তাঁর আগে কোচিং ক্লাসের বাইরে যতটা হুল্লোড় করে নেওয়া যায়।
- ওরে তুই অ্যাদ্দুর এলি, কিছু একটা আর্কিটেকচার দেখে যা।
- আচ্ছা বল, কি দেখাবি? ভিড় কম, দূর থেকে দেখা যায় এরকম কিছু।
- চ, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখে আসি।
- বড় বজরায় চেপে সমুদ্রের মধ্যে থেকে দেখব।
- সময়ে কুলোবে রে? আজকেই তো বোস্টনে ফিরতে হবে, কাল সকাল আট'টায় ক্লাস - কিছুতেই মিস করা যাবে না।
- তবে ছোট জলদি। ফাস্ট মেট্রো ধরলে হয়ে যাবে।
নাভিশ্বাস তুলে ছুটছি আমরা তিনজন।
স্ট্যাচু ছুঁয়ে, সমুদ্রের দামাল হাওয়া মুখে মেখে আবার ছুটতে ছুটতে ওদের অ্যাপার্টমেন্ট। মেট্রো ধরে যাবার সময় নেই। আচ্ছা তুই ডিনার করে নে, আমি উবার ডাকছি - নইলে বাস মিস হয়ে যাবে। ডিনারটা ইথিওপিয়ান রেস্তোঁরায় করার কথা ছিল, হল না। ক্যাব চেপে টা টা বাই বাই।
নিউইয়র্ক ভ্রমণ খতম।
রোশনি আর শীর্ষেন্দু জানত না, আমার একটা হিডেন অ্যাজেন্ডা ছিল। নিউইয়র্ক যাওয়ার। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি বা মমা নয়, আমি নিউইয়র্কে অন্য একটা জিনিস দেখতে এসেছিলাম।
অবশ্য ওরা কি করে জানবে, আমি নিজেই তখন জানতাম না কি সেটা।
--
এখন আমি নিউ ইয়র্ক থেকে বোস্টন ফেরত আসছি। নাইট বাস।
সারাদিনের হুল্লোড়ের পর ক্লান্তিতে চোখ বুজে এলেই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ওই তো শীর্ষেন্দু সাইকেল চালিয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটায় অলোকবাবুর কোচিং এ পড়তে আসছে।
শীর্ষেন্দু কাছেই থাকে কিনা। তাই ওকেও সকালের ব্যাচেই আসতে হয়।
গলির মোড়ে, গলায় মাফলার জড়িয়ে অনির্বাণ দাঁড়িয়ে আছে। সাইকেলে বসে, এক পা মাটিতে রেখে। কুয়াশায় খুব ভালো করে দেখা যাচ্ছে না, ওটা মাফলার না হয়ে মাঙ্কি টুপিও হতে পারে। ঘরে থেকে বেরোনোর আগে মা জড়িয়ে দিয়েছে। অলোকবাবু সোয়া পাঁচটায় দরজা খুলবেন, এখন ভোর পাঁচটা। পনেরো মিনিট দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
মফস্বলের শীতের সকাল, হাতে বোনা সোয়েটার ভেদ করে আলতো কামড় বসাচ্ছে।
খুব মন দিয়ে আমি সতেরো বছর আগেকার অনির্বাণ'কে দেখছি - গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে অনির্বাণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শীর্ষেন্দুর দিকে আর ভাবছে - আচ্ছা এই ছেলেটা এত ভালো অঙ্ক করতে পারে, কিন্তু স্যার'রা কেন ওকে একশোয় একশো দিচ্ছেন না কেন? সম্পাদ্য'টার বদলে ওকে অন্য কোন অঙ্ক দিলেই তো হয়। ও তো অন্য অনেক শক্ত অঙ্ক নিমেষে করে ফেলে।
--
অতীতের অনির্বাণ আসলে ভুল ভাবছে - সতেরো বছর পরে সে বুঝতে পারবে শীর্ষেন্দু আসলে কবেই একশোয় একশো পেয়ে গেছে।
রোববারে ঘুম থেকে কেউ উঠতে চাইছে না - ঘুম চোখে উঠে, আগের রাতের খাওয়া দাওয়া দিয়ে ব্রাঞ্চ সেরে নিউইয়র্ক ভ্রমণ।
- ম্যাডিসন স্কোয়ার, এম্প্যার স্টেট - এসব দেখবি?
- না রে, বড্ড ভিড় - অন্য কিছু বল।
- বাঁচালি, নিউইয়র্কে এসে লোকজন যে ভিড় করে কি দেখে ওই সব। চ তোকে MOMA দেখিয়ে আনি।
- মমা কি রে?
- Metropolitan Museum of Art ...
- ও আচ্ছা, চ তাহলে। ওখান থেকে কি সেন্ট্রাল পার্কে যাওয়া যাবে রে? ঐ যে যেটা ফ্রেন্ডস'এ দেখাত।
- হ্যাঁ হ্যাঁ জলদি চ, মাঝে রাস্তায় খেয়ে নেব।
MOMA তে গিয়ে শীর্ষেন্দু, রোশনি আর আমি হুটোপাটি করছি। অনেক দিন বাদে যেন মফস্বলের স্কুলের একটা অংশ উঠে এসেছে। এই যেন মমা থেকে বেরিয়ে স্কুলে যেতে হবে, তাঁর আগে কোচিং ক্লাসের বাইরে যতটা হুল্লোড় করে নেওয়া যায়।
- ওরে তুই অ্যাদ্দুর এলি, কিছু একটা আর্কিটেকচার দেখে যা।
- আচ্ছা বল, কি দেখাবি? ভিড় কম, দূর থেকে দেখা যায় এরকম কিছু।
- চ, স্ট্যাচু অফ লিবার্টি দেখে আসি।
- বড় বজরায় চেপে সমুদ্রের মধ্যে থেকে দেখব।
- সময়ে কুলোবে রে? আজকেই তো বোস্টনে ফিরতে হবে, কাল সকাল আট'টায় ক্লাস - কিছুতেই মিস করা যাবে না।
- তবে ছোট জলদি। ফাস্ট মেট্রো ধরলে হয়ে যাবে।
নাভিশ্বাস তুলে ছুটছি আমরা তিনজন।
স্ট্যাচু ছুঁয়ে, সমুদ্রের দামাল হাওয়া মুখে মেখে আবার ছুটতে ছুটতে ওদের অ্যাপার্টমেন্ট। মেট্রো ধরে যাবার সময় নেই। আচ্ছা তুই ডিনার করে নে, আমি উবার ডাকছি - নইলে বাস মিস হয়ে যাবে। ডিনারটা ইথিওপিয়ান রেস্তোঁরায় করার কথা ছিল, হল না। ক্যাব চেপে টা টা বাই বাই।
নিউইয়র্ক ভ্রমণ খতম।
রোশনি আর শীর্ষেন্দু জানত না, আমার একটা হিডেন অ্যাজেন্ডা ছিল। নিউইয়র্ক যাওয়ার। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি বা মমা নয়, আমি নিউইয়র্কে অন্য একটা জিনিস দেখতে এসেছিলাম।
অবশ্য ওরা কি করে জানবে, আমি নিজেই তখন জানতাম না কি সেটা।
--
এখন আমি নিউ ইয়র্ক থেকে বোস্টন ফেরত আসছি। নাইট বাস।
সারাদিনের হুল্লোড়ের পর ক্লান্তিতে চোখ বুজে এলেই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ওই তো শীর্ষেন্দু সাইকেল চালিয়ে ভোর সাড়ে পাঁচটায় অলোকবাবুর কোচিং এ পড়তে আসছে।
শীর্ষেন্দু কাছেই থাকে কিনা। তাই ওকেও সকালের ব্যাচেই আসতে হয়।
গলির মোড়ে, গলায় মাফলার জড়িয়ে অনির্বাণ দাঁড়িয়ে আছে। সাইকেলে বসে, এক পা মাটিতে রেখে। কুয়াশায় খুব ভালো করে দেখা যাচ্ছে না, ওটা মাফলার না হয়ে মাঙ্কি টুপিও হতে পারে। ঘরে থেকে বেরোনোর আগে মা জড়িয়ে দিয়েছে। অলোকবাবু সোয়া পাঁচটায় দরজা খুলবেন, এখন ভোর পাঁচটা। পনেরো মিনিট দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
মফস্বলের শীতের সকাল, হাতে বোনা সোয়েটার ভেদ করে আলতো কামড় বসাচ্ছে।
খুব মন দিয়ে আমি সতেরো বছর আগেকার অনির্বাণ'কে দেখছি - গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে অনির্বাণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শীর্ষেন্দুর দিকে আর ভাবছে - আচ্ছা এই ছেলেটা এত ভালো অঙ্ক করতে পারে, কিন্তু স্যার'রা কেন ওকে একশোয় একশো দিচ্ছেন না কেন? সম্পাদ্য'টার বদলে ওকে অন্য কোন অঙ্ক দিলেই তো হয়। ও তো অন্য অনেক শক্ত অঙ্ক নিমেষে করে ফেলে।
--
অতীতের অনির্বাণ আসলে ভুল ভাবছে - সতেরো বছর পরে সে বুঝতে পারবে শীর্ষেন্দু আসলে কবেই একশোয় একশো পেয়ে গেছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)










