Thursday, February 26, 2015

অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে

মহিলা কন্ঠ (http://youtu.be/ZMCJ_w6EUso)

মীটিং এ বহিছে প্রেম,
স্লাইডে লাগিল নেশা।
বস যে ডাকিল পিছে,
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

বসেরই অমৃত বাণী,
ঢোক গিলে সহজেই।
কুলকুচি করে ফেলি,
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

শুকতলা জীবনের,
বুট পরা চরণের।
মাথা নত করে রব।
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।

প্রোমোশন চিঠিখানা মনেরও গোপনে
আসে ওই, আসে ওই, আসে ওই

ফিসফিস কথাগুলি,
হাসিতেছে নির্জনে।
প্রমিসের ঢপে মিশি,
জাগরণে স্বপনে।।

মুহুর্মুহু শোনা যায় এইচ আর কলতান।।

অফার লেটার হাতে,
ছোটাছুটি করে কারা?
পাশেরই কিউবিকলে,
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

কেমনে জোটাল শালা?
পারবো কি জোটাতে আমি?
সবেগে নাচিছে আখি।
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

শুকতলা জীবনের,
বুট পরা চরণের।
মাথা নত করে রব।
এপ্রেসাল এসে গেছে।।

অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

এই ছলনার,
অনেক বছর আগে,
ডাউন পেমেন্ট দিয়েছিলাম আমি।
গুনে গুনে ই-এম-আই দিয়ে,
সেই ফ্ল্যাট এখন ভীষণ দামি।।
আমার কাছে …
সবার কাছে …
আমার কাছে …

শুকতলা জীবনের,
বুট পরা চরণের।
মাথা নত করে রব।
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।
অ্যাপ্রেসাল এসে গেছে।।

Monday, January 26, 2015

ব্রেজিলের কালো বাঘ

১ ছবিটা দেখেই ফেললাম।
২  বাদশাহী আংটি দেখে ফেলেছেন?
১ হ্যাঁ দেখেছি।
২ ব্যস? আর কিছু বলবেন না? বলুন না প্লিজ।
১ আগে থেকে বলে দেব?
২ বলে দেবেন মানে? সে কি মশাই? গল্প পালটে দিয়েছে নাকি?
১ তা একটু আধটু।
২ ঈশ, এটা না করলেই পারতো। শেষটা একই রেখেছে তো?
১ শেষ বলে দোব? ভালো হবে কি? মাল্টিপ্লেক্সে এতগুলো টাকা খরচা করে দেখবেন।
২ সে তো আপনার জন্যেই। বললাম একটা সপ্তা যেতে দিন, বড়দিনের ছুটিতে ছেলেটা দেশে ফিরেছে। ব্যাঙ্কের একশোটা কাজ। ওদের দেশের মত তো সব কাজ একদিনে হয় না। সময় লাগে। যাগ্‌গে, দু একটা ছাড়ুন।
১ আবির ফেলু।
২ দুত, সে তো পোস্টারেই দেখলাম। নতুন কিছু বলুন।
১ ইমামবাড়ার অ্যান্টিক ভিডিওর ওপরে ফেলু-তোপসের মডার্ন সুপার ইম্পোজ।
২ বলেন কি? সু-পা-র ইম্পোজ? কিন্তু, করতে হল কেন? ফেলু তোপসে ডাবল রোল করেছে নাকি?
১ দুর মশাই, ডবল রোল আজকাল স্ক্রিনে বোঝা যায় না। সেই উত্তর ফাল্গুনী তে ... না, অতটা করেনি। কম বাজেটে নামিয়েছে বোধহয়, বাবার জিন তো আফটার অল।
২ শিওর? কম বাজেট বলে করেচে? আজকাল তো শুনিচি ফিল্মে পয়সার অভাব নেই।
১ সুদীপ্ত জেলে, পয়সাটা দেবে কে? আর তাছাড়া ডিরেক্টরের ট্র্যাক রেকর্ড দেখুন। রেনকোট, বোম্বাই'এর বোম্বেটের এক-দু বছর পরের সিনেমা। কালো ধোঁয়ার স্টিম ইঞ্জিন রেনকোট পেল, বো-বো কেন পেল না? সিম্পল - লো বাজেট। সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দেব - আমরাও পারি এবং কম পয়সায় পারি। পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরমং তপ। ব্যস।
২ তাহলে বাজেট'ই হবে। আর? আরো কিছু ছাড়ুন।
১ রজতাভ ছিল। গুলি খেয়েছে।
২ সে কি? রজতাভ'কে যে ফেলুদা বোম্বাই'তে গুলি মারল? ও তো জেলে।
১ ছাড়া পেয়ে গেছে নিশ্চয়ই। সলমন'কে ধরে রাখতে পারলো না, রজতাভ'কে কি করে পারবে?
২ এই মাইরি সত্যি বলুন না, রজতাভ গুলি খেয়েছে? আবার?
১ আবারের কি আছে। দেব-কোয়েলের সিনেমায় তো হরবখত খায়। রূপসী বাংলা দেখেন না?
২ হ্যাঁ, মানে ... ভাবছি, রজতাভ'ই কেন বারবার ...
১ চেহারাটা বড়সড় তো - টিপ করতে সুবিধে হয়, প্লাস ভারী শরীর নিয়ে আস্তে ছোটে। একটা জায়গায় জিভ বার করে হিস হিস করে ঠোঁটের সামনে চাটছিল।
২ হিস হিস? মানে সাপের মত?
১ নাইন্টিজে ডিডি'তে চন্দ্রাকান্তা দেখতেন? রাজা শিবদৎ - অবিকল ওইভাবে নেশা করত।
২ বাপরে, এক সিনেমায় এইট্টিজ আর নাইন্টিজ।
১ আর গলৌটি কাবাব।
২ সে না হয় হল। যাই বলুন তাই বলুন, রজতাভ কিন্তু বেশ ভালো অ্যাক্টর।
১ শুধু ভালো? উদার।
২ উদার?
১ নইলে কেউ বুনিপ আর র‍্যাট্‌লের মত দু-দুটো হ্যাপেনিং রোল ছেড়ে দেয়।
২ আচ্ছা, স্পেশাল কিছু বলুন।
১ স্পেশাল? ... হু ... স্পেশাল ... স্পেশাল ... স্পেশাল এফেক্ট ... র‍্যাট্‌ল স্নেকটা যখন সারাউন্ড সাউন্ডে ছররা ছররা করতে করতে, মমতা শঙ্করের ব্যালের মত দুলে দুলে এগিয়ে আসছিল না ...
২ এগিয়ে আসছিল? থ্রি ডি নাকি? কি বলচেন কি মশাই, বুকটা ধড়াস ধড়াস করছে। ঈশ ঈশ কি মিসটাই না করলুম।
১ মিস'ই তো। মিসেস তো এখনো হয় নি। দেখে আসুন।
২ আপনেও যাবেন নাকি? এই উইকেন্ডে আরেকবার হয়ে যাক।
১ নাহ্‌ মানা আছে।
২ কিসের মানা?
১ বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ।
২ মানে?
১ হার্টের রোগ।
২ অ বুঝেছি, স্নেকটা ... মানে সাপটা দেখলে যদি ...
১ হ্যাঁ তাই, আপনি কালকে দুপুরের শোতে চলে যান। দুপুরের শোতে মাত্র আশি টাকা নিচ্ছে।
--

(দু দিন পরে)
২ এটা কি আপনি ঠিক করলেন? সব জেনে শুনে?
১ মহাপুরুষরা ভুল বলে গেছেন। সুখ যদি সকলের সাথে ভাগ করে নিতে হয়, তাহলে দুঃখ কেন নয়? আমি ওরকম করে না বললে আপনি যেতেন দেখতে?
২ দুঃখটা তো বুঝলুম, সুখ কই?
১ কেন? ব্রেজিলের কালো বাঘ?
২ সেটাও করচে নাকি?
১ উফফ্‌ ... না পারবে না। ওটা অনুবাদ ছিল। কপিরাইট সত্যজিতের নয়। চাইলেও পারবে না।
--

অজুহাত

- আব্বে সৌম্য, চেহারাটা তো একদম একই রেখেছিস।
+ তোরও একই আছে, টাকটা না পড়লে ...
- ফেসবুকে তোকে পাব ভাবি নি। ডিপার্টমেন্টের অনেকেই দেখলাম আছে।
+ কতক্ষণ এসেছিস?
- হল, ঘণ্টা দুই।
+ বই কিনলি না?
- নাহ, ওই হাতে করে দু-তিনটে গপ্প পড়ে নিলাম।
+ ভাল্লাগলো না?
- তা কেন ... ভালোই। কিন্তু কিনে আর কি হবে, বাড়িতে বোঝা বাড়ানো। আমি সময় পাব না, শাশ্বতীও সংসার নিয়েই ব্যস্ত।
+ কেন, তোর মেয়ে?
- দূর সে বাংলায় কথা বলতে পারে, ব্যস ওই অব্দি। বাংলা শেখানোর একটা চেষ্টা করা হয়েছিল ছোটবেলায়, কিন্তু সে যা পরার স্পিড। অর থেকে বেশী স্পিডে আমি এখন হিন্দি পড়ি।
+ তাই?
- বুঝিসই তো, দিল্লিতে বড় হচ্ছে। এখন ক্লাস নাইন। তারপর তো সেই স্যাট নইলে জি আর ই।

- চ একটু ঘুরি। তুই তো বই কিনবি? তোর ছেলেটা নিশ্চয়ই তোর মতনই হয়েছে। খাস দক্ষিণ কলকাতার। ছেলের জন্য কি বই কিনবি?
+ তোর তাও একটা অজুহাত আছে, আমার সেটাও নেই।

Thursday, December 18, 2014

রেনকোটের বৌদি

আপনি কি বুম্বাদার সিনেমা দেখেন?

জানি আপনি অনেক ভালো ভালো সিনেমা দেখেন। আপনার অনেক অগাধ জ্ঞান, দেশ বিদেশের সিনেমা নিয়ে কফি টেবিল থেকে শুরু করে, টেংরি কাবাব পেরিয়ে জিঞ্জার টি অব্দি আপনি আসর জমিয়ে রাখতে পারেন। কিন্তু আপনি কি সেইরকম বাঙ্গালি যার ফেসবুক বা কিছু একটায় ঘোষিত সেরা দশ বই এর মধ্যে একটাও বাংলা বই আসে না। দিল্লী-বোম্বে-জুরিখ-হনলুলু-টেক্সাসে পড়াশোনা করেছেন বা এই ধরণের কোন আন্তর্জাতিক শহরের দশ মাইল দূরের গ্রামে থাকেন বলে - (দম নিয়ে) - আপনার ঠিক আজকালকার বাংলা সিনেমা, মেনস্ট্রীম সিনেমা দেখা হয়ে ওঠে না।

এগুলো হয়ে থাকলেও আপনার সামনে ফেরার একটা সুযোগ আছে। কারণ অঞ্জন দত্ত বলে গেছেন, শেষ বলে কিছু নেই

অঞ্জন থেকে অনুপমে ফেরত আসা যাক। আমার মতে, বুম্বাদার মত কেউ নেই। এই ভদ্রলোকের সিনেমা দেখার জন্য আমার অনেক শিক্ষিত-আধাশিক্ষিত-এবং-অশিক্ষিত বন্ধুর মন আঁকুপাকু করে। তারা বুম্বাদার সিনেমা দেখতে গিয়ে আইসল্যান্ড বেড়াতে যাওয়ার মহার্ঘ্য প্লেন মিস করে। তারপর দেরি করে আইসল্যান্ড গিয়েও হোটেলে বসে বুম্বাদার সিনেমা গেলে।

ব্যাপারটা আরেকবার বলছি, ‘প্রোসেনজিতের' সিনেমা নয়, বুম্বাদার সিনেমা। অর্থাৎ কিনা যিনি নিজেই ইন্ডাস্ট্রী, তার সিনেমা। কোটি কোটি নায়িকা-অভিলাষী বাঙ্গালি মেয়েকে যিনি রুপোলী পর্দার পথ দেখিয়েছেন। সুচিত্রা সেন ছাড়া সমস্ত অভিনেত্রী যার সাথে ছবি তুলতে চান। সেই বুম্বাদা।

অনেক ছোটবেলায় আজকাল পত্রিকায় পাঠকের চিঠি বেরিয়েছিল। বুম্বাদা বাজে অভিনয় করেন, সিনেমার গল্পে কোন সারবত্তা নেই। অভিনয় জানেন না, শুধু ডান গালের পেশী কাঁপিয়ে একটা মেলোড্রামা অভিনয় করেন, ইত্যাদি।

তাঁর প্রতি উত্তরে বুম্বাদার নিজের কলমে একটা চিঠি বেরিয়েছিল। তাতে পাঠকের চিঠির মৃদু প্রতিবাদ করে বুম্বাদা লিখেছিলেন, যে তিনি ডান গালের নয়, বাম গালের পেশী কাঁপিয়ে থাকেন। এ ভাবে তাঁর গাল’কে মিস্কোট করা তিনি মোটেই পছন্দ করেন না। এবং ওই ভাবে একনাগাড়ে গাল এর পেশী সংকোচন প্রসারণ যথেষ্ট পরিশ্রমের এবং স্কিলের কাজ।

সত্যি ঘটনা।

তো মোদ্দা কথা, মাঝে মাঝে বুম্বাদার সিনেমা দেখবেন। শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, দাঁত চকচকে হবে না কিন্তু হৃত আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে।

একটা বাংলা মুভি চ্যানেলে সেরকম’ই একটা সিনেমা হচ্ছিল। নাম - ‘ভালোবাসার ছোঁয়া’। অনেক দিন বাদে বুম্বাদার সিনেমা। মনটা আনচান করে উঠলো।

কিন্ত কিছুক্ষণ পরে লক্ষ্য করলাম, নাহ্‌ বুম্বাদা নয়, নায়িকাই বেশী মন টানছেন। নায়িকা নবাগতা, মানে যখন সিনেমার শুটিং হয়েছে তখন নবাগতা। ইনফ্যাক্ট এই ভদ্রমহিলার খুব একটা সিনেমা বা পোস্টার দেখেছি বলে মনেও করতে পারলাম না। এখন নিশ্চয়ই তিনি সুখে সংসার করছেন, এ লাইন ছেড়ে দিয়েছেন।

হঠাৎ মনে মনে শিউরে উঠলাম। এ কি হল? বুম্বাদার থেকে বেশী মনোযোগ নায়িকার দিকে চলে যাচ্ছে। মিড লাইফ ক্রাইসিস কি এভাবেই দরজায় টোকা দেয়?

গভীর ভাবে ভদ্রমহিলাকে লক্ষ্য করতে থাকলাম। এখন কিরকম একটা চেনা চেনা লাগছে। মনে হচ্ছে অনেক ভালো একটা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অনেক দিন আগে কোথাও একটা ওনাকে দেখেছি।

কোথায়? কোথায়? কলেজের পাশের ডিপার্টমেন্টের ব্যথা? নাকি কলেজ সোশালে অন্য কলেজের ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রী? কিছুতেই মনে করতে পারছি না।

চল্লিশ তো দেরি আছে, চালশে কি সিঁড়ি বেয়ে আমার দিকে এগিয়ে এল?

রং চঙে ঘাগরা পরে ভদ্রমহিলা নেচেই যাচ্ছেন। হাসছেন, কাঁদছেন, শক্তপোক্ত ভিলেন কে চড় মারছেন। পটল চেরা চোখ থেকে ভুবনমোহিনী হাসি ছাড়ছেন। বুম্বাদার ওভার সাইজড্‌ জামার হাতা নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করে ভীরু হরিণীর মত ক্যামেরার দিকে নয়নপাত করছেন।

ইনি কে?

এখানে একটা স্বীকারোক্তি খুব প্রয়োজন। আমি প্রপার নাউনে খুব দুর্বল। মানে নাম মনে রাখতে পারি না। লোকের নাম, জায়গার নাম, খেলার নাম, ব্র্যান্ডের নাম। কম্পিউটর, হার্ড ডিস্ক, লিঙ্কড্‌ লিস্ট ইত্যাদি আবিষ্কার না হলে আজ আমায় রাশি রাশি কাগজ সাথে করে উর্ধশ্বাসে ঘুরে বেড়াতে হত, অথবা ‘গজনী'গামী হতে হত।

আমার বৌয়ের আবার এই ব্যাপারটা খুব স্ট্রং। নাম-ধাম-ম্যাপ-গানের কথা ইত্যাদি মনে রাখার ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে তার। বাধ্য হয়ে ডাকলাম।

- দারুণ দেখতে না রে। (নাম জিজ্ঞেস করার আগে একটু পরিবেশ তৈরি করার অছিলা)
হ্যাঁ
চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু ঠিক ...
এ তো রেনকোটের বৌদি।

রে - ন - কো - ট, বৌদি ?! মানে ঋতুপর্ণের রেনকোট?


হ্যাঁ রে বাবা, মৌলি ... মৌলি কি যেন? মৌলি গাঙ্গুলি।

নাম আমি মনে রাখতে পারি না, কিন্তু সংলাপ পারি। এক ঝটকায় মনে পড়ে গেল। সংলাপটা।

শীলাঃ বিয়ে হয়ে যাওয়া পুরনো প্রেমিকার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন, খালি হাতে যাবেন?
মন্নুঃ আচ্ছা, বলতে পারেন, বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে মেয়েরা এত কাঁদে কেন?
শীলাঃ কেন, আপনার প্রেমিকার যখন বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল, তখন সে খুব কান্নাকাটি পরছিল বুঝি?
মন্নুঃ নাহ ওর বিয়ের সময় তো আমি ছিলামই না। (একটু সময় নিয়ে) আপনার সাথে যখন আমার বন্ধুর বিয়ে হল। বিয়ে বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় আপনি পুরো রাস্তাটা কাঁদতে কাঁদতে গেলেন। সেটা কি শুধু বাড়ির লোকেদের কথা মনে করে?

(একটু অপ্রস্তুত, তারপর সামলে নিয়ে) শীলাঃ এরপর থেকে বাথরুমে যখন কাঁদবেন, শাওয়ারটা মনে করে অন করে দেবেন। মেয়েদের থেকে আপনাদের এরকম দু’একটা ব্যাপার শিখে নেওয়া উচিত।
--

রেন কোট প্রায় ৯৯% ইন্ডোর সিনেমা। ও হেনরীর গপ্পের ভারতীয় ভার্সন। আমি বলছি না, এন্ড ক্রেডিটে ঋতুপর্ণ নিজেই বলেছেন।

সম্পুর্ণ ইনডোর শুটিং করলে সিনেমা নাকি জমে না, যাত্রা যাত্রা ভাব চলে আসে। সমালোচকেরা এরকমই বলেছিলেন সত্যজিতের ‘গণশত্রু’ নিয়ে। অসুস্থ সত্যজিত ডাক্তারের নির্দেশে আউটডোর শুটিং ম্যানুস্ক্রিপ্ট থেকে ছেঁটে ফেলতে বাধ্য হন। ফলে ধৃতিমান ও সৌমিত্র’র ধুন্ধুমার মানসিক টানাপোড়েন, সামাজিক অন্ধ বিশ্বাস আর ধর্মীয় বিশ্বাসের কাছে যুক্তিবাদী মন, ‘চার দেওয়ালের মধ্যেই' হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য হয়।

রেনকোটে অবশ্য একটি আউটডোর অংশ আছে। শুভা মুদ্‌গলের গানের সাথে কালো ধোঁয়া ছাড়া ইঞ্জিন। এই একটা অ্যাডভান্টেজ বাদ দিলে, আমার মতে রেনকোট আর সব দিক থেকেই গণশত্রুর থেকে এগিয়ে। এ ধরণের গপ্পে চরিত্রের সংখ্যা কম হলে মূল গল্পটা ফোটে ভালো, বিশেষত দুটো গল্পেই যেখানে ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’। এর সাথে যোগ হবে গণশত্রু’তে গানের অভাব - ঋতুপর্ণ’র মৈথিলী ভাষাজ্ঞান, ফলোড বাই গুলজারের এডিটিং, রেনকোটের গান গুলোকে সিনেমার অংশ করে তুলেছে। মানে রেনকোট সিনেমাকে বাদ দিয়ে ওই গানগুলোর কথা ভাবাই যায় না, এবং ভাইস-ভার্সা।

মানে ঠিক অনুপম রায়ের গানের মত নয় - যে যে কোন হতাশ প্রেমিকের গলাতেই মানাবে। নির্দিষ্ট কোন সিনেমা বা কোন দৃশ্য মনে করিয়ে দেবে না।
--

এই যে শীলা মজুমদারকে দেখে আমার রেনকোট সিনেমা’টা প্রায় পুরোটা ফ্রেম বাই ফ্রেম মনে পড়ে গেল, এটা কি সিনেমাটা গণশত্রু’র থেকে ভালো বলে?
--

মন্নুঃ বিয়ে বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার সময় আপনি পুরো রাস্তাটা কাঁদতে কাঁদতে গেলেন। সেটা কি শুধু বাড়ির লোকেদের কথা মনে করে?



Friday, November 28, 2014

আই এস ডি

- দীপ, কেমন আছিস?
- আমি ভালো আছি। তোর গলাটা এরকম শোনাচ্ছে কেন? শরীর খারাপ? জ্বর লাগিয়েছিস?
- ফর দ্য এন্থ্‌ টাইম, জ্বর কেউ লাগায় না, বাধায়। আর না, আমার জ্বর হয় নি।
- তুই আই এস ডি করছিস কেন? স্কাইপ অন কর। আমি অলরেডি লগ্‌ড ইন। এত ইকো হচ্ছে কেন?
- ধুস অনেক রাত হয়ে গেছে। বাথরুমে এসে কথা বলছি। এখন কম্পিউটর খুললে মার ঘুম ভেঙ্গে যাবে। হেবি ঝাড় দেবে। আর তা ছাড়া মা উঠে গেলে বলাও যাবে না।
- তাই তো। এখানেই তো সাতটা বাজে। পাঁচ ঘণ্টার গ্যাপ, আবার ডে লাইট সেভিং, মানে রাত একটা। তুই পরে ফোন কর। কালকে।
- বাজে বকা থামাবি? তোকে একটা কথা বলার ছিল।
- কালকে বলিস।
- বলছি না মার সামনে বলা যাবে না।
- আচ্ছা বল, কি বলবি?

- দীপ, রাতুল ফোন করেছিল। সুমন ওকে ফোন করতে বলেছে। সুমন নাকি খুব অনুতপ্ত। রাতুল আমায় আরও একবার ভেবে দেখতে বলল।
- তো?
- তো কি? দীপ, তুই কিছু বল?
- দেখ, সুমনকে কোন দিন’ই আমার পছন্দ নয়। বড্ড স্বার্থপর, ভেক বদল করতে ওস্তাদ। তোর সাথে যখন সুমনের সম্পর্ক ছিল, তখন আমার তাই মনে হত। এখনও ধারণা’টা পালটায় নি। পাল্টানোর কোনো কারণ দেখি নি।
- কিন্তু পাঁচ বছর তো আমরা ছিলাম একসাথে। মা কত বারণ করেছিল। বাছুরের প্রেম, এ নাকি টিকবে না। কিন্তু টিকিয়ে রেখেছিলাম তো ...
- জোর করে টিকিয়ে রেখেছিলি। আমি বারণ করেছিলাম।
- হ্যাঁ, কান পচিয়ে দিয়েছিলি। প্রথমে তো ভাবতাম নিজের জন্য লাইন ক্লিয়ার করছিস।
- বাজে বকবি না, আমার কোনোদিন'ই তোকে ... অবশ্য লাইন বলে লাইন। শালা, কোচিং এ যাকে দেখি সেই বলে মিষ্টুকে প্রোপোজ করলাম। শালা, প্রোপোজ বানান’টা অব্দি ঠিক করে বলতে পারে না। তারপর তুই যখন সুমনের সাথে ঘোরাঘুরি করতে শুরু করলি, তখন কাকিমাকে কোনোদিন বলি নি। যতবার যেতাম তোদের বাড়ি, কাকিমা বসিয়ে সেই একি কথা। মিষ্টু কি ঠিক করছে দীপ, তুমি ওকে বারণ কর না। সবে হায়ার সেকেন্ডারি হল, এখনও তো সারাজীবন বাকি। আর আমি ডবল ডিমের অমলেট খেতে খেতে ঘন ঘন মাথা নাড়তাম।

- শয়তান, কোনোদিন অমলেট শেষ না করে তো ওঠো নি।
- ওঠা সম্ভব ছিল না, কাকিমা আমুল চিজ আর টমেটো দিয়ে বানাত। উফ্‌ফ্‌ ...

- সুমন কথা বলতে চাইছে। দীপ এখন আমি কি করবো?
- দেখ মিষ্টু, প্রেমের কোন কারণ হয় না। ভালো লাগে, তাই ভালো লাগে। কেন লাগে, অর্ধেক লোক জানে না। অর্ধেক কেন, কেউই জানে বলে আমার মনে হয় না। কারণ ... কারণ ... কোন কারণ হয় না। সবাই নিজের মনে মনে একটা কারণ বানিয়ে নেয়। ও পড়াশোনায় ভালো, অমুক’কে দেখতে ভালো, ও কেয়ারিং, ও ফুচকা খায়, সে আলুপোস্ত খায় না, তমুকে রাগাশ্রয়ী গায়, ও গীটার বাজায়। আসল কথা হচ্ছে তোমার ভালো লাগছে, তাই তুমি ভালোবাসছ, মানুষটাকে কাছে পেতে চাইছ। আমি ভুল বলেছি - প্রোপোজ বানান’টা ঠিক করে না জানলেও ভালো তো বাসাই যায়।

- দীপ তোর অসীম এবং অসহ্য জ্ঞান বন্ধ কর। এখন আমি কি করবো সেটা বলবি কি তুই।
- বলছি তো।
- বলছিস কোথায়? শুধু কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস।
- আমি এখনও বলব সুমনের কথা ভুলে যা।

- গার্জিয়ানের মত কথা বলিস না।
- বলছি না । বন্ধুর মত বলছি। সুমনের সাথে তোর সময়টা ভালো কাটে নি। কিন্তু কিছু নিশ্চয়ি ভালো লাগার মুহূর্ত ছিল। সেগুলোকে চেরিশ কর। কিন্তু লেট্‌স মুভ অন।
- পাঁচটা বছর ভুলে যেতে পারবো রে?
- ছেড়ে দে। তোর যদি মনে হয় সুমনকে এখনও তুই ভালবাসিস, তাহলে তো কাকু-কাকিমার সাথে কথা বলতে হবে ... তুই যদি বলিস আমি’ই বলতে পারি ...
- দীপ, কি বলছিস তুই? এগারো দিন বাদে আমার বিয়ে, বেনারসি কেনা হয়ে গেছে। নেমন্তন্নের কার্ড ছাপানো ... ছাপানো ছেড়ে দে ... বিলি করা হয়ে গেছে।
- কয়েকটা লোক’কে নেমন্তন্ন করেছিস বলে তোকে বিয়ে করে ফেলতে হবে, এইটে আমি বিশ্বাস করি না। যে ছেলেটাকে বিয়ে করবি বলে ঠিক করেছিস, তাকে কেমন লাগে?

- কেয়ারিং। দেখতে ভালো না, মোটা। সুমনের মত নয়।

- ওসব ছাড়। তুই কি ওর সাথে বাকি জীবনটা থাকতে পারবি?
- ছেলেটা সিন্সিয়ার। কথা যখন বলে মনে হয় ভেতর থেকে বলছে।

- ব্যস্‌ ... রাতুল-সুমন সব ভুলে যা। সেকেন্ড চান্স দেওয়াটা যেমন খুব দরকার, একটা সময়ের পরে সুযোগ গুটিয়ে নেওয়াটা তাঁর থেকেও বেশী প্রয়োজনীয়। এবার ফোন রাখ। আই এস ডি। ও হ্যাঁ, আমি ফ্রি কন্সাল্ট্যান্সি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। প্লাস তোর থেকে একটা চিকেন বিরিয়ানি অনেক দিন পাই। আমি বিদেশে আসার পরেই ছক করে টিউশনিটা শুরু করলি যাতে খাওয়াতে না হয়।

- খাওয়া ছাড়া আর কিছু বুঝিস তুই?
- না বুঝি না, কিন্তু আমার আজকের জ্ঞানদানের পর ন্যাচারেলি চিকেন বিরিয়ানিটা ডবল মাটনে আপগ্রেডেড হয়ে গেল। এবার রাখ।
- আচ্ছা রাখছি। একটা কথা বলতো দীপ আমরা এত ভালো বন্ধু কি করে রয়ে গেলাম? স্কুলের সবাই আস্তে আস্তে আলাদা হয়ে গেল ...
- হে হে, প্রিয় বন্ধু টাইপ?


- তুই কোনোদিন আমায় প্রেমের কথা শোনাতে আসিস নি তাই।

Wednesday, November 12, 2014

এক হাজার ভি লে লো


- বয়েস কতো?
- কুড়ি।
- গুল মারবি না। এইচ আই ভি টেস্ট করানো আছে? ... টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া করি না।
- তোর কন্ডোম আছে?
- সে তো সামনের দোকানেই কিনতে পাওয়া যাবে। টেস্ট রিপোর্টটা তো আর ডার্লিং, দোকানে কিনতে পাওয়া যায় না। নাকি সেটাও কিনে ফেলেছ?

ডলি পেছনে হাত বাড়ালো।

পিছনে কুঁজো হয়ে দাঁড়ানো কুতকুতে চোখের একটা লোক। জামা কাপড়ের অবস্থা সঙ্গীন। একটা হাত কিরকম বেঁকে শরীরের পেছন দিকে ঢুকে আছে। সারা দেহে কিরকম একটা যক্ষ্মার মত ছড়িয়ে পড়া দুর্বলতা। এরকম লোকের সাথে বেশীক্ষণ কথা চালানো মুশকিল।

কিন্তু সোমনাথ’কে বাধ্য হয়ে চালাতে হল। একে শুক্রবার, সকাল থেকে অফিসে গা ম্যাজ ম্যাজ করছে। তার ওপর লাঞ্চে ডবল মাটন বিরিয়ানিটা ঢেঁকুর তুলে তুলে রাতে আর কিছু খেতে দেবে বলে মনে হচ্ছে না। এই তো কন্ডোম কিনতে গিয়ে জেলুসিল খুঁজল। নেই।

শাল্লা …  কাজের সময় একটা কিছু যদি পাওয়া যায়। পরের দোকানটায় কটা পুদিনহরা কিনে নিল সোমনাথ।

http://jmalordy.files.wordpress.com/2011/12/f562.jpg


ডলি অনেকক্ষণ হাত বাড়িয়ে আছে।
লোকটা তাও কিছু বলছে না। লোকটার চোখে শেষ বিকেলের রোদ্দুরের ঝিলিক দিয়ে গেল। নাকি ওটা ধূর্ততা ছিল? বোধহয় আরও কিছু পয়সা বাগাবার ফিকিরে আছে।

এসব কায়দা সোমনাথের ভালোই জানা আছে, এপাড়ায় তো আর কম দিন হল না। সেই কলেজে পড়তে থার্ড ইয়ারে প্রথম আসা। সেবারে অবশ্য পুরোটা সাহসে কুলোয় নি। দরজা দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকেই বমি পেয়ে গেছিল।

কড়কড়ে ষাট টাকার গুনাগার।

বিবমিষা - সোমনাথের হঠাৎ মনে পড়ে গেল শব্দটা। আজকের দিনে অবশ্য এসব শব্দ বেশী কেউ ব্যবহার করে না। ইশকুলে সোমানাথ ছাত্র ভালো ছিল। নেহাত টুয়েল্ভের পরে আর পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করলো না, তাই।

ডলি দুহাজার টাকা চেয়েছে। আসলে ডলি নয়, ওর ওই দালাল’টাই চেয়েছে। কলেজের মেয়েরা আজকাল সরাসরি কথা বলে না। চালু হয়ে গেছে। ইন্টারনেটে কাস্টমার খোঁজে। আর যারা একটু কমদামী তারা একটা সস্তার পিম্প নিয়ে ঘোরে।

ডলি একটু কম-দামী। চোখেমুখে ভদ্র ছাপ আছে, কিন্তু সে তো নিজেকে বিক্রি করার জন্যেই। সবাই জানে নিষ্পাপ মুখের দাম বেশী। সে যিশুই হোক আর হিসুই হোক।

সোমনাথ পনেরশো বলেছে।

এক পয়সা বেশী নয়।

- শালা, পনেরশো মধ্যে পাঁচশো তো তুই মারবি, জানি না ভেবেছিস?
দালালঃ দুহাজার লাগবে।
- চল্‌ ফোট। দেব না। ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না। এই পাশের গলিতেই পেয়ে যাব। অনেকদিনের চেনা, পনেরোশ’তেই পেয়ে যাব।
- দুহাজার লাগবে।
- এই হারামি, তুই অন্য কোন কথা জানিস না? একি কথা ভাঙ্গা রেকর্ডের মত কপচাস না মাইরি। মটকা পুরো গরম হয়ে যাচ্ছে।
- দুহাজার…
- দেখবি শালা, দেব না এমন … ভর সন্ধ্যেবেলা শালা পোদ মাড়াতে এসেছে … চল্‌ ফোট …

তখন ডলি এগিয়ে এসেছিল।
- ওতেই হবে। তবে অ্যাডভান্সড লাগবে।
- উরে বাবা, জাতে মাতাল, তালে তো একদম জাকির হোসেন। তা সুইটি তোমার ইয়েটা বেশ, আমার হেব্বি পছন্দ হয়েছে। বলছি কি, এ লাইনের নিয়মটা তো মাইরি তুমিও জানো … আম্মো জানি। কেন শুধুমুধু নকড়াবাজি করছ? হাফ আগে, হাফ কাজকম্মের পরে। হিন্দি সিনেমা দেখোনা নাকি?

দালাল মুখ বাড়িয়ে বলল, দু হাজার।
- অ্যাই মোলো যা, এবার কিন্তু হাত চলে যাবে মাইরি। এটা কি পিস রে ভাই, শুধু এক কথা … এক কথা … 
ডলি দালালকে বলল, ছেড়ে দে, কিপটে মাল, পনেরশোর বেশী গলবে না।
- উরে শাল্লা, তুই তোকারি। প্রচুর রস তো রে। আমার পরে কি এই মালটার পালা নাকি মিস্‌? তা এ কত দেয়, দুহাজার, এক হাজার, নাকি একশো আট, দুবার ফ্রি?

ডলি তোর কি তাতে? আম খেতে এসেছিস আম খা, গাছের না তলার সে দিয়ে কি হবে। 
সোমনাথঃ এই তো মুখ খুলেছো সোনা। আহা দিল জুড়িয়ে গেল। দেখি দেখি, টেস্টের রিপোর্ট’টা দেখি। রাতে আবার বাড়ি ফিরতে হবে, লাস্ট বাস মিস হয়ে গেলেল হেবি কেচ্ছা। তোদের সাথে রাত কাটাতে হবে।

ডলি এখনও হাত বাড়িয়ে আছে। দালালটা শালা কুতকুত করে তাকিয়ে আছে তো আছেই।
দে বে রিপোর্টটা, আর কতক্ষণ মাড়াবি?

এদিক ওদিক তাকিয়ে ডলি নিজেই দালালটার কাঁধ থেকে ঝোলা একটা দলাপাকানো কাগজ বার করলো।
- এটা কি? কীসব ওষুধের নাম লেখা - প্রেসক্রিপশন তো।

ডলি কাগজটা ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নিল। আরেকটা কাগজ বেরোল। আরও নোংরা।
সোমনাথ খুঁটিয়ে দেখে নিল। কলকাতার বড় নার্সিং হোমের কাগজ। হুম্‌ সব কিছু ঠিকঠাকই আছে। ছবিটাও মিলছে।
- এ তো দু মাসের পুরনো রে। লেটেস্ট কপি কই?
- চার মাসে একবার করাই। প্রতি মাসে টেস্টের পয়সা কে দেবে বে, তোর বাপ?

এটা সোমনাথ ভালোই জানত। তাও গেয়ে রাখল আর কি। যদি আবার রেট বাড়িয়ে দেয়। সব মাগীর কাছে এইচ আই ভি রিপোর্ট থাকে না। তবে ইল্লি নাকি, দুহাজার সোমনাথ কিছুতেই দেবে না।

দালালটার দিকে ঘুরে বলল, এই নে হাজার রাখ। বেশী দিয়ে দিলাম। বাকিটা কাজের পরে। আর এটা একশো। টিপস্‌ না সোনা। হেবি ঠাণ্ডা দিয়েছে, একটা রামের নিপ নিয়ে আসবি। হ্যাঁ হ্যাঁ যা পাবি। একশো টাকায় আবার ব্র্যান্ড। দেখছিস না, পনেরশো টাকায় কিরকম রাস্তার মাল জুটেছে।
শোন, বোতলের মুখ যদি খোলা থাকে, প্যান্ট হলুদ করে দেব শালা, আমায় চেন না ... (চিল্লিয়ে) ... বরফ নিয়ে আসবি শালা ... ভেতরটা ঠাণ্ডা রাখতে হবে তো, নইলে বাইরেটা গরম করবো কি করে ...
--

আহ্‌ ... হাই তুলতে তুলতে সোমনাথ বেরিয়ে এল। বেশ জমেছিল খোঁয়ারিটা। কচি মেয়ে, অনেক দিন বাদে জমিয়ে ফুর্তি হল।

মিশমিশে কালো অন্ধকারের মধ্যে দালালটাকে আর অত খারাপ লাগছে না এখন। ইন ফ্যাক্ট দালালটা ভালোই কাজ করেছে। মাঝে মাঝে অন্য লোকে এসে শালা এত হল্লা করে, এত কষ্টের নেশা পুরো চৌপাট হয়ে যায়। দালালটা অন্তত অন্য জায়গায় ডিউটি মারতে যায় নি। শালাদের পয়সার খাঁই বড্ড বেশী।

সোমনাথ বেশ দরাজ হয়ে পড়ল।

এই নে বে, আরও হাজার। পুরো দুহাজার দিলাম।  আজকে তোর লাকি ডে। অ্যাশ কর ব্যাটা, অ্যাশ কর … টলতে টলতে সোমনাথ গান ধরল, “এক হাজার ভি লে লো/ দো হাজার ভি লে লো/ ভালে ছিন লো মুঝসে মেরি জওয়ানি/ মাগর মুঝকো লটা দো হাড়কাটার সানি ... ”

লাস্ট বাস ছাড়ার আগে একবার হিসু করে নিতে হবে।
--

চল দাদা, কালকে তোর ডাক্তার দেখানোর জন্য দেড় দরকার ছিল, অনেক বেশী হয়ে গেছে। তুই কি ভাবলি? তুই দুই চাইলে ও দেবে না?! আমায় না ছুঁয়ে চলে যাবে ...
হুঁ কোন জগতে যে থাকিস ... আজকাল লোকের হাতে প্রচুর পয়সা ... সেদিন পেপারে দেখলি না সিক্সথ পে কমিশন না কি ছাই একটা বেরিয়েছে। সবার হাতে পয়সা এখন।

চ, আজকে একটু বড়লোকি করি। কে সি দাসে গিয়ে মিষ্টি খাই দুটো। ওই অল্প ভাজা চমচম'টা।
--

সোমনাথ থাকলে দেখতে পেত, এই অন্ধকার ম্রিয়মাণ নিয়নের আলোতেও দালালের চোখটা আবারো জ্বলে উঠল। শ্যাময় চামড়া দিয়ে ঘষা হীরের মত।

ফিজিক্স এটাকে বলে আভ্যন্তরীণ প্রতিফলন।



জীবন’ও তাই বলে।

Sunday, November 9, 2014

মাম্মা ওয়াঞ্চস য়ু টু সিট ডাউন, নাউ: "হ্যাপি নিউ ইয়ার"

হেঁ হেঁ হেঁ, আমার ব্লগের পাঠক সংখ্যা ফের দুই’তে নেমে এসেছে। রুট কজ অ্যানালিসিস করলাম - মোদ্দা কারণ হচ্ছে চরম ইনকনসিস্টেন্সি। ট্রাভেলগের নাম করে যা খুশী লিখে যাচ্ছে ব্যাটা।
 
কিন্তু স্বামীজী বলে গেছেন, যুবসমাজকে এ ভাবে রোখা যাবে না, তাই যাচ্ছেও না।

আজকের ব্লগটা আরও হাল্কা সুতো দিয়ে ট্রাভেলের সাথে বাঁধা। ইন ফ্লাইট এন্টারটেনমেন্ট - তাতে দেখা একটি সিনেমা। সিনেমার নাম হ্যাপি নিউ ইয়ার।

কিছু কিছু থ্রিলার মুভিতে প্রথমেই দেখিয়ে দেওয়া হয় খুনি কে, এরপর বাকি সময় ধরে দেখানো হয় কিভাবে গোয়েন্দা খুনিকে পাকড়ালেন বা নাকানি চোবানি খেলেন। এটা শক্ত স্টাইল। বেশীরভাগ থ্রিলার গুলো ‘কে খুনি?’ - এই সাসপেন্সের ওপর ভর করেই টিকে থাকে, তাতে অনেক সময়ই প্রথম বার দেখার পর আর মজা থাকে না। গডফাদার দেখার সময় আপনি তো নিশ্চিত জানেন, গডফাদার কে? তাহলে বারবার দেখেন কেন? গল্পের জন্যে, তাই না। 

এই মেরেছে, দেখেছেন, গাছে না উঠতেই এক কাঁদি, বড় বড় বাতেল্লা। আসলে সচিন তেন্ডুলকরের দেশের লোক তো, যেখানে এক লাখ এক্সপার্ট স্টেডিয়ামে বসে, ঠাণ্ডা পানীয়ে চুমুক দিতে দিতে প্রতিটি ডেলিভারি পরখ করে, আর বাইশ’টা উল্লুক ঘন সবুজ মাঠ’টার মধ্যে সারাদিন রোদের মধ্যে দাপাদাপি করে যায়।

মিলিয়ে নেবেন, আমি কোন দিন থ্রিলার সিনেমা বানালে এরকমভাবেই বানাবো, প্রথমেই দেখিয়ে দেবো খুনি কে। আজকের লেখাটায় সেটারই হাত মকশো করছি।

হ্যাপি নিউ ইয়ার সেই গোত্রের একটি থ্রিলার - ওই শক্ত গোছের, যেখানে প্রথমেই দেখিয়ে দেওয়া হয় খুনি কে। আসলে খুনি একজন নয়, একাধিক। শাহরুখ খান, আমাদের এন আর আই প্রীতি, রিয়েলিটি শো, ফাঁড়া খান (এটা টাইপো নয়, আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলায় ভদ্রমহিলার নাম এইটেই হবে)

এন আর আই কমপ্লেক্স ব্যাপারটা খুব জটিল নয়, প্রথম বোধ হয় স্যমন্তকের অর্কূট পোস্টে এই কথাটা পড়েছিলাম। কিছু কিছু এন আর আই মানুষের মধ্যে দেখা যায়, সাহেব দেখলেই ঘাড় নুয়ে আসে, জিভের জল শুকিয়ে আসে - সে আসুক অসুবিধে নেই, কিন্তু দেশ এবং দেশের মানুষ দেখলেই তাঁদের সেই শুকনো জিভে সাড় ফিরে আসে। আর এটাতেই অসুবিধে।

কারণ দেশের মানুষকে সেই সসাড় জিভের সাড় দিতে সিনেমার শুরু থেকেই অসম্ভব বিকৃত উচ্চারণে শাহরুখ ‘ফ্যারিস’ (sic) শহরের নাম উচ্চারণ করলেন।

শহরের নাম এবং তার উচ্চারণ নিয়ে এত হল্লা করছি কেন? কারণ, আমি বড্ড প্রাদেশিক। শুধু আমি নই, প্রতিটি মানুষ যাঁরা মাতৃভাষায় কথা বলতে পারেন, সে তিনি পৃথিবীর যে দেশেরই হোন না কেন, তিনিও খুব প্রাদেশিক। অতএব আমি একলা নই। এবং আমি জানি যে তাঁরা আশা করেন, তাঁদের প্রিয় শহরের নাম ঠিকভাবে লোকে উচ্চারণ করবে বা অন্তত চেষ্টা করবে।

এখানে একটা ছোট্ট গল্প বলা প্রয়োজন। আমার মাস্টার ডিগ্রীর এক ক্লাসমেট - নাম আলেইদিন মাদি (Alie El-Din Mady) - বাড়ি আলেকজান্দ্রিয়ায়। ওর সাথে আমার আলাপ জমার প্রধান কারণ হচ্ছে ফ্রেশার্সের দিন ওকে আমি অজান্তে চমকে দিয়েছিলাম।

- হাই, আমার নাম অনির্বাণ।
- আমি আলেইদিন মাদি। তোমার বাড়ি কোথায়?
- কলকাতা, ইন্ডিয়া। তোমার?
- আলেকজান্দ্রিয়া।
- মি-শ-র?! (মমি কফিনের বাইরে জাগ্রত চলন্ত মিশরীয়’কে দেখার উত্তেজনায়)
- হ্যাঁ, মানে ইজিপ্ট, কিন্তু (একটু চমকে গিয়ে) কি বললে তুমি? মিশ(র)?
- হ্যাঁ, মানে আই মেন্ট টু সে ইজিপ্ট।
- মিশ(র) কথাটা তুমি কোথায় শুনলে?
- আমার ক্লাস সিক্সের ইতিহাস বইতে।
- অনির্বাণ, আমার মাতৃভাষা আরবি। আরবিতে আমার দেশের নাম মিশ(র) - ‘র’ টা প্রায় সাইলেন্ট। আমি কোনো বিদেশীকে আমার দেশের নাম আমি যেভাবে বলি সেভাবে উচ্চারণ করতে শুনি নি। এই প্রথমবার।
- (স্বস্তির নিশ্বাস) 
- ভি এইচ ডি এলের অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রোফেসর টিম ফর্ম করতে বলেছেন। ওটা কি আমরা একসাথে করতে পারি, অনির্বাণ? তোমার নামটা আমি ঠিক উচ্চারণ করলাম তো?
- (প্রায় হাত পা তুলে, এতক্ষণ কি করে টিম বানাবো বুঝতে পারছিলাম না) নিশ্চয়ই, আলেইদিন। আর আমার নাম নিয়ে ভেবো না, ওটা খুব কমন নাম, ইন্টারনেটে ঘাঁটলে কোটি কোটি বেরোবে।
- ওহো তোমার নাম তো তাহলে খুব জনপ্রিয় নাম। আমার নাম’টা তাহলে তোমার নিশ্চয়ই খুব বোরিং লাগছে। বাই দ্য ওয়ে, আমার নাম উচ্চারণ করতে তোমার অসুবিধে হলে তুমি বরং আলাদিন বলতে পারো - ইংরাজিতে লোকে ওইটেই বলে।

চমক কখনো একদিন থেকে আসে না। যদি আসে তাহলে বুঝতে হবে, ঘটনা সুবিধের নয়। বা সুবিধের দিকে এগোচ্ছে না।

নাম নিয়ে আক্কেলসেলামি দেয়ার পরেও বাংলা মিডিয়াম স্কুলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ভাণ্ডার আরেকটু ভরে উঠলো - মিশর শব্দ’টা শেখানোর জন্য।
--

ব্যাক টু হ্যাপি নিউ ইয়ার - এই সিনেমা নিয়ে প্রচুর রিভিউ, ব্যঙ্গ, উত্তেজনা নেট হাতড়ালেই পাবেন। আমার এক ফেসবুক বন্ধু লিখেছে - হ্যাপি নিউ ইয়ার দেখার পরে হার্ট প্রবলেম দেখা দিলে ইনশিউরেন্স কোম্পানি সেই মেডিক্যাল ক্লেম কভার করছে না - আত্মহত্যা জনিত সমস্যা নাকি ক্লেমের পলিসির বাইরে।

এইরকম হাজারো টীকা-টিপ্পনী আপনি লিচ্চয় দেখে ফেলেছেন।

কিন্তু আপনাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, “হ্যাপি নিউ ইয়ার সিনেমাটিকে এক কথায় প্রকাশ করো” - তাহলে আপনি কি বলবেন?

আমি বলবো ঢপ।
প্রচলিত অর্থে নয়, সূক্ষ্ম অর্থে ঢপ। কলকাতা শহরে কিছু কিছু চপের দোকানে এটা পাওয়া যায়। ঢপ হল এক প্রকারের চপ, পূর্ণ নাম 'ঢপের চপ'। আগের দিন যা যা মাল বেঁচেছে, যেমন আলুর চপ, পেঁয়াজী, বেসনের গুঁড়ো, শুকিয়ে যাওয়া ঘুগনী - এই সব আচ্ছা করে মিশিয়ে একটা মন্দ পাকিয়ে দুটো তিনকোণা পাঁউরুটির মধ্যে ঢুকিয়ে, গোটা প্যাকেজ’টা ফের বেসনে চুবিয়ে লাল লাল করে ভেজে ঢপ তৈরী হয়।

হ্যাপি নিউ ইয়ার সেরকম’ই একটি সিনেমা। একটি কয়েকশো কোটির ঢপ।

নাচ, গান, লাস্য, প্রেম, দুঃখ, ইটালিয়ান জব, মোদী - সব পেয়ে যাবেন।

এত স্পয়লার দিলাম, তাও আপনি অবশ্যই সিনেমাটা দেখুন। কারণ এ সিনেমার পরতে পরতে আছে অবাক বিস্ময়। সিনেমায় হেড চোর শাহরুখ একটা তেজোড়ি খুলে হীরে চুরি করবেন। কি বলবো মশাই, তেজোড়ি’টা এক্কেবারে আমাদের বাড়ির পঁচিশ বছরের পুরনো কেলভিনেটর ফ্রিজটার মত দেখতে। সিম্পল এন্ড ডেফিনিটলি নট স্টেট অফ দ্য আর্ট। শুধু তাই নয়, সেই তেজোড়ি’র আবার এগারো কোটি কম্বিনেশন। তিনটে হুইল - দুটো বড়ো হুইল - তাতে একশোটা করে দাগ আর একটা ছোটো হুইল তাতে দশটা দাগ - এতেই ‘এগারো কোটি কম্বিনেশন’। শুধু ফ্রিজটা পঁচিশ বছরের পুরনো নয়, পরিচালকের অঙ্কের জ্ঞানও পঁচিশ বছর আগের আমার অঙ্কের জ্ঞানের সমান।

বাই দ্য ওয়ে, হ্যাপি নিউ ইয়ারে খুনি কে সে তো জানলেন, কিন্তু খুন হল কে?

মিঃ শাহরুখ খান এবং তাঁর কিছু টিকে থাকা ফলোয়ার।
একেবারে মাস মার্ডার। যেটুকু আবেগ-ভালোবাসা-বিস্ময় বাকি ছিল, সে বাজিগরের ডার্ক রোল হোক, বা দিল সে’তে দেশদ্রোহী-কিন্তু-আবেগপ্রবণ অমর কান্ত ভার্মা হোক, ক্রমশ ফিকে হয়ে আসা, পাতলা চুলের মত হাতেগোনা ‘যুক্তিবাদী’ ফ্যানেদের গেলে ফেলল হ্যাপি নিউ ইয়ার।

তাহলে হ্যাপি নিউ ইয়ারে প্রাপ্তির ভাঁড়ার কি শূন্য? নাহ্‌, ভাগ্যিস জয়া ভাদুড়ী থুড়ি বচ্চন ছিলেন। নেহাত আমার ছেলে অভিনয় করেছে, তাই দেখতে গেছিলাম এ ছাড়া একেবারে বোগাস সিনেমা - আজকের চব্বিশঘণ্টা ব্যাপী রিয়েল টাইম মিডিয়ায় এ কথা বলতে হিম্মত লাগে।

মহানগরে ডেব্যু টা তাহলে বৃথা যায় নি, কি বলেন?

পুনশ্চঃ এইটুকু লেখার পরে মনে হল একবার সার্চ করে দেখি জয়া বচ্চন কোনো ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিনা মহানগর নিয়ে। চমক এলো। চমকটা এবার এক দিক থেকে এবং সেটা দুঃখের। 
  
“My father was a simple writer/journalist who gave his children the freedom to do what they wanted. He wrote a few books in Bengali but unfortunately, only one of them got translated into the English language it’s called the Valley of Terror or Obhishopto Chambal. It was because of him that I signed my first film Mahanagar with Satyajit Ray. To be honest, I didn’t care for Satyajit Ray. I was 13 and did the film only because I was bribed with chocolates. I wasn’t keen on doing the film, but then my father told me that it wasn’t an opportunity that comes by everyday. That if I did it, it would be a wonderful story to tell my grandchildren some day ...

... HNY is the most nonsensical film I have seen in recent years. I said that to the film’s lead actor as well. I watched it only because Abhishek was part of it he was baffooning all the way through it.”

ব্লগে এতো কিছু না বকলেও চলতো।