Sunday, August 4, 2013

একটি সাধারণ আংটি (২)


পল্টুদা একটা সাইকেল নিয়ে এসেছে। একটা বাইক, কি নিদেন পক্ষে একটা স্কুটারও জুটলো না? আমাকে বললে তো আমার স্কুটিটা করে নিয়ে আসতাম। সাইকেলে করে শখের গোয়েন্দা এসেছে অন-কল ডিউটি করতে। প্রেস্টিজে হলুদ আর গ্যামাক্সিনের কম্বো।
সাইকেলটা গেটের বাইরে রেখেই ইশারায় আমায় ডেকে নিল।
- কি হয়েছে বলতো? কোনো ডিটেল বাদ দিবি না।
চট্‌ করে শুনে নিয়ে পল্টুদা মানুদা আর বৌদিকে ডেকে বললো, আপনারা একটু শুনুন।
- আংটিটা শেষ কবে দেখেছিলেন?”
- এই তো গত পরশু। পুপাই মাঝে মাঝে খুব জেদ করে। আংটিটাই ওর কাছে বাবার সব চেয়ে কাছের স্মৃতি। সেদিনও দাদাইের আংটিটা দেখবো বলে বায়না করছিল।
- পুপাইকে ছাড়া আংটিটা আর কাউকে দেখিয়েছেন?”
- না মানে ওটা তো খুব একটা দামী দেখানোর মত জিনিস ছিলো না। অল্প দামের জিনিস, সেন্টিমেন্টাল ভ্যালুটাই, মানে ...
পল্টুদা একটু কড়া চোখে আমার দিকে তাকালো, এই ডিটেলটা মিস হয় যাওয়ার জন্য মনে হচ্ছে কপালে বকুনি আছে।
- ঠিক আছে, আমি আধঘণ্টা সময় নিচ্ছি। তার মধ্যে হলে হবে, নইলে নয়। আপনাদের আজকে একটা অনুষ্ঠান আছে। সেটা তো নষ্ট হতে দিতে দেয়া যায় না। আপনারা বরং ঘোষণা করে দিন যে আপনারা আরো কিছু গেস্ট এক্সপেক্ট করছেন। ততক্ষণ যদি সবাই একটু অপক্ষা করেন। আমার মনে হয় না এতে কেউ আপত্তি করবেন বলে।
বক্তব্য শুনে আমার হয়ে গেছে। বুকের মধ্যে ঢিপ্‌ ঢিপ্‌ শুরু হয়ে গেছে। বলে তো দিল, পারবে তো?

ভাবতে ভাবতে দেখি মানুদার কাছ থেকে এক প্যাকেট তাস নিয়ে বাচ্চাদের ম্যাজিক দেখাতে শুরু করে দিয়েছে। নর্ম্যাল পাসিং-এর ম্যাজিক। কিন্তু গল্প বলতে বলতে বলছে বলে ওটাই দারুণ ইন্টারেস্টিং লাগছে। পুপাইের বন্ধুরা তো অলরেডি ফ্যান হয়ে গেছে। বাচ্চাদের চেয়েও ওর উৎসাহ যেন আরো বেশী।

মানুদা সবার সাথে ঘুরে ঘুরে গল্প করছেন। কিন্তু চোখটা মাঝে মাঝেই পল্টুদার দিকে চলে যাচ্ছে। খুব একটা ভরসা পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

কিছুক্ষণ পরে ম্যাজিক শেষ হয়ে গেল। পল্টুদা দেখি কেকের টেবিলটার পাশে গিয়ে কিসব দেখছে। এক-দুবার হাত দিয়ে মোমবাতিগুলো ঠিক করে দিল। এমনিতে খুব হ্যাংলা। গোয়েন্দাগিরি করতে এসে শেষে কেক খেয়ে নেবে নাকি? সাড়ে সর্বনাশ।
আমি আস্তে আস্তে কেকের টেবিলের পাশে গিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলাম, এই, কিছু বুঝতে পারলে নাকি? কেকের মধ্যে কি দেখছো?”
- বুলু তুই একটা জিনিস খেয়াল করেছিস? পুরো কেকটা ঠিকঠাক। ঘন সবুজ বিস্কুটার গুঁড়োর মাঠ। শুধু ক্লাব-হাউসের দিকটায় সবুজ রংটা কিরকম অগোছালো। কেউ যেন হাত দিয়েছে।
- কেকটা আনতে গিয়ে কেকের ওপরের ঢাকনায় লেগে গেছে হয়তো।
- না, তাহলে তো মাঠে লাগার আগে ক্লাব হাউসে লাগতো। ওটা ডেফিনিটলি মাঠের থেকে বেশী উঁচু।
- হচ্ছে তো আংটি রহস্য, এর মধ্যে কেক নিয়ে পড়লে কেন?”
- না রে, খালি মনে হচ্ছে, কি একটা জানি একটা দেখেছি বা শুনেছি কিন্তু কিছুতেই রিলেট করতে পারছি না। যাই, একটু বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিয়ে আসি। তুই মানুদাকে ততক্ষণ আটকে রাখিস। এখনও তো দশ মিনিট সময় হাতে আছে।
দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ কি মনে হল, দেখি ফিরে এসেছে। কেকের ওপরে হাতটা নিয়ে গিয়ে ঘড়িতে কি একটা দেখল আর মুখটা চওড়া হাসি হাসি হয়ে গেল। পাগলে গেছে মনে হয়।
- এই, কি হয়েছে?”
- হয়ে গেছে। ডান। যে কথাটা ভুলে গেসলাম, সেটা মনে পড়ে গেছে। বেসিক সায়েন্স।
- বেসিক সায়েন্স?”
- হ্যাঁ, ক্লাস সিক্স কি সেভেন। আর একটুখানি কাজ বাকি, তুই পাঁচ মিনিটের মধ্যে মানুদাকে ডেকে দে।
রকমসকম দেখে আমার চোখ গুলো শিওর অটোমেটিক্যালি গোল গোল হয়ে গেছে। ব্যাটা আবার বাচ্চাদের দঙ্গলে মিশে গেছে। কেকের ওপরের সাদা ফিনফিনে কভারটা দিয়ে ওরিগ্যামি হচ্ছে। ডোবাবে দেখছি।

মানুদা দেখি আর এক রাউন্ড চা নিয়ে অতিথিদের সার্ভ করছে। মুখে হাসি, কিন্তু একটা অপ্রস্তুত ভাব। আমি কানে কানে গিয়ে ডেকে এলাম।
- হ্যাঁ ভাই, কিছু খোঁজ করতে পারলে? আর বোধহয় অপেক্ষা করাটা ঠিক হবে না। এবার অনুষ্ঠানটা শুরু করতে হবে। অনেকেই দূর থেকে এসেছেন। তাড়া আছে। খেয়ে দেয়ে বাড়ি ফেরত যেতে হবে।
- শুনুন, মানুদা। আংটিটা আমি খুঁজে পেয়ে গেছি। আপনাকে এক্ষুনি দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু একটু পরে দেব। আর, একটা ছোট্ট শর্ত আছে। ধরে নিন সেটাই আমার পারিশ্রমিক।
- কি শর্ত বলো?
- আপনি চোরের নাম জানতে চাইবেন না। এটা আপনাকে মেনে নিতেই হবে।
- সে কি? অ্যাতো হ্যারাস্‌ড হলাম। ব্যাটাচ্ছেলেকে দুঘা দিতে না পারলে জমবে না।
- তাহলে এই কেস আমি এক্ষুণি ছেড়ে দিচ্ছি। চলি রে বুলু।
মানুদা একবার আমার দিকে তাকিয়ে, আবার পল্টুদার দিকে ফিরে প্রশ্রয় দেওয়ার ভঙ্গীতে বলল, আরে ভাই ... শোনো শোনো ... তোমরা আজকালকার ইয়ং জেনারেশন, তোমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলা মুশকিল। আজকের মতো এই ঝামেলাটা থেকে উদ্ধার করে দিয়ে যাও। আমার চোর খোঁজার দরকার নেই। আংটি পেলেই আমার চলবে, এমন কিছু দামি জিনিসও নয়। হরিদ্বারে দশ টাকায় কেনা। কিন্তু পুপাইকে শান্ত করতে আংটিটা লাগবেই। তুমি যা বলছো তাই হবে। কথা দিচ্ছি।
- ভেরি গুড। পুপাইকে একবার একটু ডেকে দিন। ওর সাথে একটু কথা আছে।

বৌদি পুপাইকে নিয়ে এসেছেন। পুপাই খুব একটা খুশী নয়। আংটি হারিয়ে গেছে, প্লাস বন্ধুদের ছেড়ে একটা কোথাকার একটা অচেনা লোকের সাথে কথা বলতে হচ্ছে। পুপাই, আমি তোমার একটা আঙ্কেল। একটু এদিকে এসো। তুমি কি জানো তোমার দাদাই তোমায় সচিনের কুসংস্কারের কথা কেন বলেছিলেন?”
পুপাই ঘাড় নাড়লো, হ্যাঁ, ওতে ওর কনসেন্ট্রেশন বাড়ে। আর ও অ্যাতো ভালো খেলতে পারে।
- ঠিক, কিন্তু প্রশ্নটা হল দাদাই তোমায় কেন বলেছিলেন? পুপাই, তোমার মত বয়েসে সচিন যখন পাড়ার ক্রিকেটে প্রথম খেলতে নামে তখন কিন্তু ওর প্যাড ছিলো না। তাহলে সেই প্রথম ম্যাচটায় ও কি করে ভালো খেলেছিলো?”
পুপাইের মুখ দেখে মনে হচ্ছে বেশ চিন্তায় পড়ে গেছে। শেষমেশ হাল ছেড়ে দিল।
- জানি না।
- সচিনের কোচ তাঁকে যে কথা গুলো শিখিয়েছিলেন সেগুলো মনে করে নামত। মাঠে নেমে সেগুলোই করতো। তোমার দাদাই তোমায় সেরকম কিছু বলেন নি, পুপাই?”
পুপাই একটু ভাবল। তারপর থেমে থেমে বলল, দাদাই বলতো ভয় না পেতে। ভয় পেলে মানে তুমি হেরে যাওয়ার দিকে এক ধাপ এগিয়ে গেলে।
- তাহলে তোমার কি করা উচিত? আংটির কথা না ভেবে, দাদাই পাশে আছেন ভেবে?”
- দাদাই ... দাদাই থাকলে বলতো ... বলতো যে ... পুপাই যাও, এক ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দাও।
- তাহলে এখন তুমি কি করবে?”
- কিন্তু দাদাইের আংটিটা?”
- সেটা তো প্রাইজ। প্রাইজ কি করলে পাওয়া যায়?”
- ফার্স্ট হলে?”
- আর?”
- আর ... আর ... সাহস দেখালে। অনেক, অনেকটা সাহস দেখালে।
- তাহলে?”
- আচ্ছা, আমি ফুঁ দিচ্ছি।
- গুড বয়।

পল্টুদা বারান্দায় বেরিয়ে এসে বেশ জোরে হাততালি দিলো। অতিথিরা সকলেই প্রায় ঘুরে তাকালেন। একটু গলা খাঁকরে বললো, নমস্কার। সমস্ত অতিথি এসে গেছেন। এবার আমরা অনুষ্ঠান শুরু করবো।

পুপাই একটু এদিক ওদিক তাকিয়ে ইতস্তত করে গিয়ে কেকের পাশে দাঁড়াল। সবাই এগিয়ে এল। পুপাই চোখ বন্ধ করে বুক ভরে দম নিয়ে জোরে ফুঁ দিল। পাশেই পল্টুদা। কিন্তু পাঁচটা মোমবাতি নিভেছে। পুপাই চোখ খোলার আগেই, চোখের পলকে, পল্টুদা এমন ভাবে ঘড়ি দেখার ভান করে হাত নাড়লো যে শেষ মোমবাতিটাও নিভে গেল। কায়দার শেষ নেই। 
সবাই পটাপট হাততালি দিচ্ছে।

পুপাই হাসছে। স্বাতী বউদি কেক কাটার জন্য ছুরিটা এগিয়ে দিতেই, পল্টুদা এগিয়ে বলল, বৌদি, তাহলে পুপাই এর প্রাইজটা?” স্বাতী বৌদি আমাদের আগের আলোচনা শোনে নি। অতিথি আপ্যায়নেই ব্যস্ত ছিল। একটু অবাক, সে তো কতো গিফট্‌ পেয়েছে। আমরাই তো একটা সাইকেল দিয়েছি। তুমি কোন গিফট্‌ এর কথা বলছো?”
আহা সেগুলো তো গিফ্‌ট, প্রাইজ নয়। ওর তো একটা প্রাইজ প্রাপ্য।
পল্টুদা পুপাই এর দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করল, ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ড কাপ জেতার পর, সচিন কোন প্রাইজটা নিয়ে মাঠে ঘুরেছিল পুপাই?”
পুপাই একটু ভাবল, ওয়ার্ল্ড কাপ?”
তোমার ওয়ার্ল্ড কাপটা খুলবে না?” পল্টুদা নিজেই এগিয়ে গিয়ে কেক থেকে ওয়ার্ল্ড কাপটা তুলে পুপাইকে দিল। ততোক্ষণে আমি যা বোঝার বুঝে গেছি।
কাপের মধ্যে থেকে আংটিটা বেরোল। আংটিতেও একটু চকলেট লেগে আছে।
পল্টুদাকে মটন বিরিয়ানি না খাইয়ে মানুদা ছাড়লেন না।

খেয়ে দেয়ে পুপাই আর ওর বন্ধুদের আরো দুটো তাসের ম্যাজিক দেখিয়ে পল্টুদা চুপচাপ কেটে পড়ছিল। মোক্ষম সময়ে মানুদা ক্যাঁক করে ধরলেন, কি করে আংটিটা খুঁজে বার করলে বল তো? চোর কে জানতে চাই না, কিন্তু গল্পটা তো তাই বলে মিস করা যায় না।
আমিও পোঁ ধরলাম, হ্যাঁ, বল বল কি ভাবে ধরলে?”
- কি করে, বুঝতে পারিস নি? সিম্পল, বেসিক ফিজিক্স।
- বেশি দাদাগিরি না ফলিয়ে চটপট বল তো বুঝলে কি করে? কে রেখেছিল আংটিটা ওখানে?”
- আচ্ছা, প্রথম থেকে শুরু করি। এসেই শুনলাম আংটিটা সস্তা, মানে দেখেই বোঝা যায় সস্তা। তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক অতিথিদের সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া গেল। এটুকু অন্তত শিওর হওয়া গেল আর যাই হোক, বেচে দেবে বলে কেউ আংটিটা চুরি করে নি। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক কেউ নয়।
- , তাহলে তো পুঁচকিগুলোর মধ্যে কেউ একটা। সেটা কে বুঝলে কি করে?”
- প্রথমেই বাচ্চাগুলোকে ভালো করে দেখলাম। গুঁড়ি গুঁড়ি আট জন। তাদের মধ্যে সব চেয়ে বেশী টেনশনে দাঁতে নখ কাটছে একজন। বন্ধুর জন্মদিনে কোনো ছোটা-ছুটি হই-হুল্লোড় নেই। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। ম্যাজিক দেখে অন্যমনস্ক হয়ে হাসছে।
- তা দিয়ে কি প্রমাণ হয়? ঢপবাজি যতোসব। আর যদি সন্দেহ হয়েই বা থাকে, বুঝলে কি করে যে ও কোথায় রেখেছে আংটিটা? জেরা করেছ?”
- পুরোটা শোন আগে, ধরে নে বাচ্চাটার নাম গুল্লু। আমি প্রথম বার তাসের ম্যাজিক দেখানোর সময় কাছে গিয়ে দেখলাম, গুল্লু শুধু নখ নয়, আঙ্গুল থেকে চেটে চেটে চকোলেট খাচ্ছে।
- তা, জন্মদিনের পার্টিতে তো চকোলেট খাবেই  কিন্তু, কিন্তু - ও হো হো হো - তখনও তো কেকটাই কাটা হয় নি।
- যাক, এতোক্ষণে। বুঝতে পেরেছিস তাহলে। বেটার লেট দ্যান নেভার। গুল্লু আর পুপাই একসাথে ক্রিকেট খেলে। কিন্তু পুপাই যত রান করে, গুল্লু তত রান করতে পারে না। গুল্লুকে পুপাই বলেছিল ওর ম্যাজিক আংটির কথা।
- তাই, পুপাই ওর সমস্ত কনফিডেন্স আংটিটা থেকে পায় বলে গুল্লু আংটিটা লুকিয়ে রেখেছিল। রাইট?”
- এক্স্যাক্টলি সো। মাথাটা মাঝে মাঝে একটু সার্ভিসিং করা। জং ধরে যাচ্ছে তো। রেগুলার সার্ভিসিং করালে, পরের বার থেকে জলদি স্টার্ট নেবে।
- একদম বাজে বকো না। কেক হয়তো এমনিই হাতে লেগে গেছে। আংটিটা ওই কাপের মধ্যে না লুকিয়ে অন্য কোথাও তো লুকিয়ে রাখতে পারতো। কাপের মধ্যেই আছে সেটা জানলে কি করে? জিজ্ঞেস করেছিলে?”
- নাহ্‌, ওটা গেস। এডুকেটেড গেস, প্লাস লাক। আমার ঘড়ির রিস্টব্যান্ডে একটা ছোটো কম্পাস আছে জানিস তো? টেবিলের ওপর আংটি খোঁজার নাম করে, সেটা কেকের কাছে একটু ঘুরিয়ে আনলাম আরকি। কেক তো প্লাস্টিকের তৈরী। তার কাছে গিয়ে দেখি কম্পাসের কাঁটা বাঁই করে ঘুরে গেল। তার মানে কি দাঁড়ালো?”
- এ হে, এটা তো সোজা। তার মানে কেকের মধ্যে ধাতব কিছু আছে। ক্যাচ, কট্‌, কট্‌।
- কলম্বাসের ডিম টেবিলের ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়াটাও এবার বলবি সোজা ছিল। ম্যাজিকের রহস্য জেনে গেলে ম্যাজিকটা জলের মত লাগবে বই কি। যা যা, মেলা ফক্কুড়ি করিস না।
- ঠিক হয়, মেনে নিচ্ছি। ক্রেডিট দিচ্ছি তো। কিন্তু তাই বলে অ্যাতোটা ফুটেজ নিলে? পুপাইকে অ্যাত্তো ডায়লগ?”
- ওসব তোর মাথায় ঢুকবে না। নিজের জন্মদিনে নিজেই নিজের আংটিটা খুঁজে পেয়ে ওর কিরকম আনন্দ লাগল বলত। আমি যদি গপ্পো না জমিয়ে নিজেই টুক করে বার করে দিতাম, তাহলে রহস্য হয়তো দ্রুত সমাধান হতো, কিন্তু স্ক্রিপ্ট ফেল মেরে যেত।
মানুদার হাঁ মুখটা বন্ধ হওয়ার আগেই, সাইকেলের প্যাডেলে উঠে চাপ দিল পল্টুদা।

ও হ্যাঁ, অনিমেষ আমার প্রেমিকও বটে। প্রোপোজ ঠিক হয় নি। মানে কেউই ঠিক করে উঠতে পারি নি। সেবার যাদবপুর থেকে গ্রুপ ট্রিপে দার্জিলিঙে যাওয়া হল। খুব মজা হয়েছিল। গান, গল্প, কবিতা, আড্ডা। আমি বাড়ির সবার জন্য গিফ্‌ট কিনলাম। পল্টুদাকে একটা সুন্দর মাটির মুখোশ কিনে দিয়েছিলাম। ওই ম্যালের ওপরের দোকানটা থেকে। এমনিই দিয়েছিলাম। কেনার সময় অতশত ভাবি নি। সবার জন্য কিনছি, ওর জন্যও কিনলাম। আমি কাজ ফেলে রাখা একদম পছন্দ করি না। দোকানের মধ্যেই গিফ্‌ট হাতবদল করে ফেললাম। আসল ব্যাপারটা হল তারপর। ও মুখোশটা হাতে নিয়ে কেবলুর মত বল্লো, এহে, তাহলে  তো আমাকেও তোকে কিছু কিনে দিতে হবে রে। তারপর হাঁচড়-পাঁচড় করে একটা বাদামী-বেগুনী রঙের, ভয়ংকর, দেখলেই-মেজাজ-খিঁচড়ে-যায় এরকম একটা অসুর-মার্কা মুখোশ আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে কিনা, এটাই বোধহয় তোকে ভালো মানাবে, বুঝলি?” মজা নয়, খুব সিরিয়াস মুখ করে, যেন আমার ভালো লাগবে কিনা ঠিক বুঝতে পারছে না।
সেদিন থেকে ফটাস করে প্রেমে পড়ে গেছি। মানে একদম ধপ্‌ করে। ইংরিজীতে যাকে বলে, হেড ওভার দ্য হিল্‌স। এমনিতে সবজান্তা হরিদাস ভাবসাব হলে কি হবে, ভেতরে ভেতরে একটা চরম-ছাপোষা-নিপাট-বাঙ্গালী ছেলে। একদম প্রিয় বন্ধুর 'মাই ডিয়ার ন্যাবা' টাইপ। ইন ফ্যাক্ট, আমি ভাবছি এর পরে ওর গোয়েন্দাগিরির আর কোনো গপ্পো হলে ন্যাবাদা বলেই লিখবো। জমে যাবে।

সেদিন বললো, আজ অব্দি বুঝলি বুলু, পৃথিবীতে কোনো গোয়েন্দা গল্পে প্রেমিকা তার গোয়েন্দা-প্রবরের গল্প লিখছে, এরকম হয় নি। মানে আমি যতগুলো ভাষার গোয়েন্দা গল্প পড়েছি, তাতে অন্তত দেখি নি। তুই সেদিক দিয়ে ফার্স্ট। তবে দেখিস গল্পগুলোকে যেন ম্যাদামারা প্রেমের গল্প বানিয়ে দিস না। বেশ জমজমাট থ্রিলার করে লিখিস।
- গল্পের নাম?”
- সেটা আমি বলব না। তোর কেরামতিটা দেখি।
- আরে বাবা, এটা তোমার ফার্স্ট কেস তো। কিছু একটা বল।
- বাদশাহী আংটি না হোক, একটা আংটি তো হল, নাকি?”



12 comments:

  1. খাসা! তবে এবার Sean Parker এর মত বলি- "Drop the "একটি" Just "সাধারণ আংটি" It's cleaner..." :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. থেঙ্কু! তবে আপাতত নামটা এই থাক। এডিটিং এ প্রচুর ব্যথা আছে, দেখলে বলিস।

      Delete
  2. বাঃ, খুব সুন্দর গল্প।
    চালিয়ে যান। :)

    ReplyDelete
    Replies
    1. ধন্যবাদ অরিজিত। চুপকথায স্বাগত।

      Delete
  3. Bhalo tobe...
    Shubhechcha roilo:)

    ReplyDelete
    Replies
    1. kathakali, chup kothay swagato .. 'bhalo tobe' bole theme gelen kano? tobe ki? nirvoye bole felun ..

      Delete
  4. Kichu mone korben na ekta khotke lagche. Metal er kache ele compass er k(n)ata to ghore na ! Suchu matro magnet er kache ele ghore. Tahole ki angti ta magnetic chilo ? Royal Bengal Rohoshyor tolowar tar moto ?

    ReplyDelete
    Replies
    1. ghonada, compass nijei to ekti magnet .. se to metal er kachhe asle ghurbei .. eta akebare nischit ami .. compass er needle er jothesto kachhe metal asle magnetic field change hoye giye compass er north-south guliye jabei jabe ..

      tobe royal bengal rohosyer sathe tulana tanay ami gurutoro lojjito hoye porechhi ..

      Delete